• ২০২৬ এপ্রিল ১৯, রবিবার, ১৪৩৩ বৈশাখ ৬
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০৪ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

সিলেটের কালিঘাট বাজারে চোরাই পণ্যের সিন্ডিকেট-জনির বিরু দ্ধে অ ভি যো গ

  • প্রকাশিত ০৮:০৪ অপরাহ্ন রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬
সিলেটের কালিঘাট বাজারে চোরাই পণ্যের সিন্ডিকেট-জনির বিরু দ্ধে অ ভি যো গ
File
জসিম উদ্দিন, গোয়াইনঘাট উপজেলা সিলেট।

সিলেটের কালিঘাট বাজারে চোরাই পণ্যের সিন্ডিকেট-জনির বিরু দ্ধে অ ভি যো গ

সিলেটের পাইকারি ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র কালিঘাট বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজসহ বিভিন্ন চোরাই পণ্যের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে,এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র বাজার নিয়ন্ত্রণ করে অবৈধভাবে ভারতীয় পেঁয়াজ ও অন্যান্য পণ্য বাজারজাত করছে। এর ফলে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব, আর বৈধ ব্যবসায়ীরা পড়ছেন চরম প্রতিযোগিতার মুখে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ছড়ারপাড় এলাকার মাহবুবুর রহমান জনি ও তার ঘনিষ্ঠদের নেতৃত্বে বাজারে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা অবৈধ পথে ভারতীয় পেঁয়াজ এনে বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করছে। অভিযোগ রয়েছে, নিলামকৃত বৈধ পণ্যের ওপরও তারা প্রভাব বিস্তার করছে এবং বাজারের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে সম্মানহানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই চক্রের কর্মকাণ্ডে অনেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং থানায় অভিযোগ করতেও সাহস পাচ্ছেন না।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কালিঘাট বাজারে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি টাকার অবৈধ পণ্য কেনাবেচা হয়। রাতের আঁধারে সীমান্তপথে আসা ভারতীয় পেঁয়াজ, চিনি, জিরা, তেল, চকলেট, মেহেদি ও অন্যান্য পণ্য বাজারে ঢুকছে। এসব পণ্যের দাম বৈধ আমদানিকৃত পণ্যের তুলনায় কম হওয়ায় চোরাকারবারিরা সহজেই বাজার দখল করে নিচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালিঘাটের শাহচট সড়কের ইলিয়াস ম্যানশনে অবস্থিত একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেট পরিচালিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের সদস্যরা মধ্যরাত ও ভোরে বাজারে পণ্য প্রবেশ ও বণ্টনের কাজ তদারকি করে। এ বিষয়ে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত একটি ভয়েস রেকর্ডও গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে এসেছে বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

এদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, চোরাই পণ্যের অবাধ প্রবাহে বৈধ ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক অভিযান, বাজার মনিটরিং এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, কালিঘাট বাজারে অবৈধ পণ্য ও সিন্ডিকেট সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, সীমান্ত রক্ষা, রাজস্ব আয় নিশ্চিতকরণ এবং বৈধ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে কালিঘাট বাজারের চোরাই পণ্য সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এখনই দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সর্বশেষ