রাতের অন্ধকারে ছদ্মবেশে মহিলা পুলিশ কমিশনার, এক রাতেই ধরা পড়ল ৪০ ইভটিজার।
“রেট কত?”,“যাবে নাকি?“বাইকে ওঠো”—
গভীর রাতে নির্জন রাস্তায় একা দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণীকে ঘিরে এমন অশ্লীল মন্তব্য, টিটকারি আর হেনস্তার চেষ্টা চলছিল একের পর এক। সময় তখন রাত ১২টা থেকে ভোর ৩টা। এলাকার বিভিন্ন মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও নির্জন সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটিকে ঘিরে মাতাল ও বখাটে পুরুষদের উৎপাত যেন থামছেই না। কেউ কুপ্রস্তাব দিচ্ছে, কেউ গালাগালি করছে, আবার কেউ শারীরিকভাবে হেনস্তার চেষ্টাও করছে।
তবে তারা জানতো না— যাকে সাধারণ তরুণী ভেবে উত্যক্ত করছে, তিনি আসলে হায়দ্রাবাদের মাল্কাজগিরির নবনিযুক্ত পুলিশ কমিশনার আইপিএস বি সুমাথি।
স্থানীয় নারীদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে রাতের বেলায় ইভটিজিং, কটূক্তি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ পাচ্ছিল পুলিশ প্রশাসন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও অপরাধীদের হাতে-নাতে ধরতে সাহসী এক আন্ডারকভার অভিযানে নামেন পুলিশ কমিশনার নিজেই।
সাধারণ পোশাকে, কোনো নিরাপত্তা বাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি ছাড়াই তিনি রাতভর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেন। আর আড়ালে কৌশলগতভাবে মোতায়েন ছিল পুলিশের বিশেষ টিম।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক বখাটে ও মাতাল ব্যক্তি ওই তরুণীকে লক্ষ্য করে অশালীন আচরণ শুরু করে। কেউ কুপ্রস্তাব দেয়, কেউ আবার জোর করে স্পর্শ করার চেষ্টাও করে। পুরো পরিস্থিতি গোপনে পর্যবেক্ষণ করছিলেন পুলিশ সদস্যরা।
অভিযান শেষে মোট ৪০ জন ইভটিজার ও অসামাজিক আচরণকারীকে শনাক্ত করে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি কাউন্সেলিংও করা হয় বলে জানা গেছে।
এই ব্যতিক্রমী ও সাহসী অভিযানের পর এলাকায় নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযানের পর থেকেই রাতে নারীদের উত্যক্ত করার ঘটনা অনেকটাই কমে গেছে।
ভারতীয় পুলিশ প্রশাসনে এই আন্ডারকভার অভিযান এখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কমিশনার আইপিএস বি সুমাথির এমন সরাসরি মাঠপর্যায়ের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই।
মতামত দিন