লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে উদ্ধার হওয়া মর্টার শেল সদৃশ বিস্ফোরক বস্তু তিনটি শক্তিশালী এক ধরণের গ্রেনেড জাতীয় বিস্ফোরক বলে শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) দলের বোম্ব নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্ফোরক উদ্ধার করেন। পরে তা সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রামগতি থানার ওসি লিটন দেওয়ান।
এর আগে বুধবার সকালে উপজেলা সদর আলেকজান্ডার আ স ম আবদুর রব সরকারি কলেজ এলাকায় রামগতি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তাজল ওসি সড়কে পাশে পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইন মেরামত করতে গিয়ে খোঁড়াখুঁড়ির সময় ওই মর্টার শেল সদৃশ বস্তু তিনটি দেখতে পান শ্রমিকরা। ঘটনা জানাজানির পর ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলটি লাল ফিতা দিয়ে ঘেরাও করে রাখে। ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ পাহারায় ওই সড়কে যানবাহন ও সাধারণের চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং ঢাকায় বোম্ব ডিস্পোজাল টিমকে বার্তা পাঠানো হয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিস্ফোরক তিনটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদর আলেকজান্ডার সেবাগ্রাম ফজলুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় পাশে রাখা একটি বালির স্তূপে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে বিস্ফোরকগুলোর সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়। সিটিটিসি দলের বোম্ব নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের আসা ৫ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল এই নিষ্ক্রিয় কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসময় রামগতি থানার ওসিসহ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রামগতি থানার ওসি লিটন দেওয়ান জানান, বিস্ফোরক বস্তু তিনটি শক্তিশালী এক ধরণের গ্রেনেড জাতীয় বিস্ফোরক বলে শনাক্ত করে বিশেষজ্ঞ দল। পরে এগুলো উদ্ধার করে সেবাগ্রাম ফজলুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় পাশে রাখা একটি বালির স্তূপে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়। বিস্ফোরণের সময় এলাকায় বিকট শব্দের সৃষ্টি হলেও পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
বিশেষজ্ঞ দলের বরাতে ওসি লিটন দেওয়ান আরও জানান, এ ঘটনায় একটি জিডি করা হয়েছে এবং উৎস সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এসব বিস্ফোরক ২০০ বছর পর্যন্ত অবিস্ফোরিত থাকে।
মতামত দিন