সামাজিক মাধ্যমে অস্থিরতা তৈরিতে পরিকল্পিত অপচেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণতান্ত্রিক ও সংসদীয় সংস্কৃতি শক্তিশালী করার সরকারের উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে এ ধরনের তৎপরতা সম্পর্কে সরকার সম্পূর্ণ অবগত এবং পরিস্থিতি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করছে।
শনিবার (১ আগস্ট) বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সংসদের রাজনৈতিক বিষয়গুলোকে অযথা রাজপথে এনে সামাজিক মাধ্যমে উত্তেজনা ও সংঘাত সৃষ্টি করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, সংসদীয় রাজনীতিকে দুর্বল করে রাজনৈতিক বিভাজন উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, জনগণ সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তাই উসকানিমূলক বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখানোর পরিবর্তে সরকার সংযম, দায়িত্বশীলতা ও গঠনমূলক সমাধানের পথেই এগোচ্ছে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে অবস্থান করেও আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। তাঁর দেওয়া ‘যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবে তুমি বাংলাদেশ’—স্লোগান আন্দোলনকারীদের অনুপ্রাণিত করেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী দাবি করেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত করার নানা চেষ্টা হয়েছিল। এমনকি রাষ্ট্রের কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তিও নির্বাচনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে লন্ডনে তারেক রহমান ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠকের মাধ্যমে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের সিদ্ধান্তই সংকট উত্তরণের পথ তৈরি করে।
তিনি আরও বলেন, সরকার সবসময় আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান চায়। তবে রাষ্ট্র, জনগণ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে প্রয়োজন হলে আইনানুগ ও কঠোর পদক্ষেপ নিতেও দ্বিধা করবে না। শান্তিপূর্ণ সমাধানের সব সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশকে স্থিতিশীল রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
মতামত দিন