• ২০২৬ অগাস্ট ০১, শনিবার, ১৪৩৩ শ্রাবণ ১৭
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০৮ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

র‍্যাবের কথিত ‘গোপন বন্দিশালা’ পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরা

  • প্রকাশিত ০৮:০৮ অপরাহ্ন শনিবার, অগাস্ট ০১, ২০২৬
র‍্যাবের কথিত ‘গোপন বন্দিশালা’ পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরা
Time Bangla news
মোঃ সেলিম মিয়া বিশেষ প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ

র‍্যাবের কথিত ‘গোপন বন্দিশালা’ পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরা 


গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অংশ হিসেবে র‍্যাব-১ সদর দপ্তরে অবস্থিত কথিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতিরা। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত র‍্যাব-১ কার্যালয়ে এই বিচারিক পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।

পরিদর্শনকারী দলের নেতৃত্ব দেন ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার। তার সঙ্গে ছিলেন ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এছাড়া প্রসিকিউশন টিম, আসামিপক্ষের আইনজীবী, তদন্ত কর্মকর্তা, মানবাধিকারকর্মী, গুমের শিকার পরিবারের প্রতিনিধিসহ গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, প্রচলিত আইন, রোম স্ট্যাটিউট এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিধিমালা অনুযায়ী বিচারিক প্রয়োজনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সুযোগ রয়েছে। সেই বিধান অনুসারেই ট্রাইব্যুনাল এই পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, বিচার কার্যক্রমে কেবল নথিপত্র ও সাক্ষ্যই নয়, ঘটনাস্থল সরেজমিনে দেখা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার দাবি, টিএফআই সেলে ছোট-বড় মিলিয়ে ২৯টি কক্ষ রয়েছে এবং নিচতলায় একটি অত্যন্ত সংকীর্ণ কক্ষও পাওয়া গেছে, যেখানে স্বাভাবিকভাবে একজন মানুষের শোয়ারও সুযোগ নেই। সাক্ষ্য-প্রমাণ অনুযায়ী এসব কক্ষে আটক ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে চোখ ও হাত বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।

প্রধান কৌঁসুলির ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ ও ব্যারিস্টার আরমানকে একসময় এই সেলে রাখা হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন, অনেককে পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় আদালতে হাজির করা হলেও কিছু ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন এবং অনেকের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, আটক ব্যক্তিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করা কিংবা পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মানা হয়নি। তার মতে, বেআইনি আটক, গুম ও হত্যার মতো অভিযোগ মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে।

আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, কথিত ‘আয়নাঘর’ নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও এটি বাস্তব একটি স্থাপনা। তিনি অভিযোগ করেন, ভবনের কিছু অংশে দেয়াল তুলে আলামত গোপনের চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে সেই দেয়াল অপসারণের পর একাধিক কক্ষ ও কথিত ‘ডেথ সেল’-এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আলামত নষ্টের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা প্রসিকিউশনের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার পক্ষে আইনজীবী তাবারক হোসেন বলেন, টিএফআই কোনো নির্দিষ্ট ভবনের নাম নয়; এটি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত একটি টাস্কফোর্স। তার দাবি, অভিযোগপত্র অনুযায়ী আটক ব্যক্তিদের আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।

টর্চার সেলের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, সেখানে নির্যাতন সংঘটিত হয়েছে কি না, তা আদালতেই প্রমাণ করতে হবে। ভবনের ছোট ছোট কক্ষগুলো নিরাপত্তাজনিত প্রয়োজনে অস্থায়ী আটককক্ষ হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আসামিপক্ষের আরেক আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মেসবাহ বলেন, কাউকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির করতে ব্যর্থ হওয়া প্রশাসনিক বা বিভাগীয় বিষয় হতে পারে, তবে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় না। তিনি বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন, তবে নিরপরাধ কেউ যেন শাস্তি না পান, সে বিষয়েও আদালতকে সতর্ক থাকতে হবে।

রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনও পরিদর্শন শেষে বলেন, যে স্থানটি দেখানো হয়েছে সেটিই কথিত ‘আয়নাঘর’ কি না, সে বিষয়ে তার ব্যক্তিগত সন্দেহ রয়েছে।

এর আগে গত ২১ জুলাই প্রসিকিউশনের আবেদনের পর ট্রাইব্যুনাল বিচারিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং ঘটনাস্থলের বাস্তব অবস্থা যাচাইয়ের লক্ষ্যে এই পরিদর্শনের নির্দেশ দেন।

প্রধান কৌঁসুলি জানান, আগামী শনিবার ঢাকা সেনানিবাসে ডিজিএফআইয়ের কার্যালয়ে থাকা আরেকটি কথিত বন্দিশালা পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে বর্তমান ও সাবেক ১২ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলাটির বিচার কার্যক্রম শুরু হয় গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর। বর্তমানে ১০ জন আসামি বিশেষ সাব-জেলে আটক রয়েছেন এবং বাকি সাতজন পলাতক হিসেবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত আছেন।

সর্বশেষ