কালাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ রিতা আক্তারের কবর জিয়ারত করলেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের তালখুর গ্রামের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শহীদ রিতা আক্তারের কবর জিয়ারত করেছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী।
শুক্রবার সকালে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি তালখুর গ্রামের কবরস্থানে যান এবং শহীদ রিতা আক্তারের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কালাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম হোসেন মণ্ডল, যুগ্ম আহ্বায়ক মওদুদ আলম সরকার, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সাজ্জাদুর রহমান তালুকদার (সোহেল), যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলিম সরকার, কালাই উপজেলা জিয়া পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও প্রেসক্লাব কালাইয়ের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম তালুকদার (লায়ন)সহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
কবর জিয়ারত শেষে প্রতিমন্ত্রী শহীদ রিতা আক্তারের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান। এ সময় প্রতিমন্ত্রীকে দেখে নিহত রিতার বাবা-মাসহ স্বজন ও গ্রামের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকার মিরপুর-২ এলাকার ওভারব্রিজের নিচে পুলিশের ছোড়া গুলিতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন কলেজছাত্রী রিতা আক্তার। তিনি মিরপুরের দুয়ারীপাড়া সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
রিতা আক্তারের বাড়ি জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের তালখুর গ্রামে। তিনি একটি হতদরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তান ছিলেন। মেয়ের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে তাঁর বাবা আশরাফ আলী ঢাকায় রিকশা চালাতেন এবং মা রেহেনা বিবি অন্যের বাসাবাড়িতে কাজ করতেন। রিতা চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আগেই আন্দোলনের নির্মম ঘটনার শিকার হয়ে তাঁর নিথর দেহ ফিরে আসে গ্রামের বাড়িতে।
মতামত দিন