দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিনামূল্যে সরবরাহ করা ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের এনসিডি কর্নারে আসা নিম্ন আয়ের শত শত রোগী চরম উদ্বেগ ও ভোগান্তিতে পড়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মজুত ওষুধ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। জরুরি ভিত্তিতে নতুন সরবরাহ না এলে রোগীদের আর বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া সম্ভব হবে না।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত হলেও রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার তুলনায় ওষুধের সরবরাহ বাড়েনি। ফলে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন ডায়াবেটিস রোগীকে সেবা দেওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। আগে যেখানে এক মাসের ওষুধ দেওয়া হতো, বর্তমানে সংকটের কারণে তা কমিয়ে মাত্র ১৫ দিনের ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে।
রোগীরা জানান, বাজার থেকে নিয়মিত ডায়াবেটিসের ওষুধ কিনে খাওয়া অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। স্থানীয় বাসিন্দা বুলবুল বলেন, তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। প্রতি মাসে প্রায় তিন হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হয়। সংসারের অন্যান্য খরচ মেটানোর পর এই ব্যয় বহন করা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।
বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহরিয়ার পারভেজ বলেন, এনসিডি কর্নারের মাধ্যমে রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়। তবে মেটফরমিন ও গ্লাইক্লাজাইডের মজুত প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
মতামত দিন