• ২০২৬ অগাস্ট ১৪, শুক্রবার, ১৪৩৩ শ্রাবণ ৩০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০৮ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

হবিগঞ্জে গ্যাস সংকট ছোট-বড় ১৭১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।কি হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ?

  • প্রকাশিত ০৯:০৮ অপরাহ্ন শুক্রবার, অগাস্ট ১৪, ২০২৬
হবিগঞ্জে গ্যাস সংকট  ছোট-বড় ১৭১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।কি হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ?
Time Bangla news
মোশারফ হোসেন লিটন, বিশেষ প্রতিনিধি, টাইম বাংলা নিউজ ঢাকা

হবিগঞ্জে গ্যাস সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ১৫ দিন ধরে চাহিদার তুলনায় কম গ্যাস পাওয়ার পর বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে জেলার অধিকাংশ শিল্পকারখানায় সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ছোট-বড় ১৭১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ উৎপাদন ক্ষতি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো। উৎপাদন বন্ধ থাকায় সময়মতো পণ্য পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার বাতিলের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জের ১৭১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে অর্ধশতাধিক শতভাগ রফতানিমুখী। আরও কিছু প্রতিষ্ঠান আংশিকভাবে রফতানি করে। এসব কারখানার বড় অংশ ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টের মাধ্যমে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। গ্যাস বন্ধ হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনও বন্ধ হয়ে গেছে। যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের মহাব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) আবুল হোসেন জানান, সেখানে ছয়টি কারখানার মধ্যে চারটি শতভাগ রফতানিমুখী। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১২ হাজার মানুষ কাজ করেন। কারখানাগুলোর দৈনিক অনুমোদিত গ্যাসের চাহিদা ১৩ দশমিক ৬ স্ট্যান্ডার্ড মিলিয়ন ঘনফুট হলেও কিছুদিন ধরে মাত্র ৩ স্ট্যান্ডার্ড মিলিয়ন ঘনফুট দেওয়া হচ্ছিল। বুধবার রাত ১২টা থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

স্টার সিরামিক্সের প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তা পল্লব জানান, কয়েকদিন ধরে চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-চতুর্থাংশ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল। বুধবার দুপুর থেকে সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে এবং সময়মতো পণ্য পাঠানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এসএম স্পিনিংয়ের মহাব্যবস্থাপক আবুল বাশার জানান, তাঁদের প্রতিষ্ঠানে সাড়ে ১৩ হাজার শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করেন। বুধবার বিকেল পৌনে ৪টা থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিন ৩৮ হাজার মেট্রিক টন সুতা উৎপাদন হতো। এখন উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ থাকায় দৈনিক প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার ৬০০ ডলার, অর্থাৎ প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।

স্থানীয় একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ফরাস দেবনাথ বলেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় কয়েকদিন ধরেই স্বাভাবিক উৎপাদন সম্ভব হচ্ছিল না। এখন পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় কারখানার কাজও থেমে গেছে। শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মস্থলে এসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চললে তাঁদের আয়-রোজগার ও সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  টাইম বাংলা নিউজকে এক শিল্প কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, সব কারখানায় একইভাবে গ্যাস বন্ধ করা হয়নি। কিছু প্রতিষ্ঠানে এখনও সরবরাহ রয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, জাতীয় সংকট হলে সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই নীতি কেন প্রয়োগ করা হচ্ছে না।

হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের (প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ) মহাব্যবস্থাপক দীপক কুমার দেব জানান, সেখানে প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। কয়েকদিন ধরে সংকট চলার পর বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি শূন্য হয়ে গেছে। এতে পার্কের সব কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস সরবরাহ কমানো বা বন্ধের বিষয়ে একাধিক চিঠি দিলেও সেখানে সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি বলে দাবি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর। টাইম বাংলা নিউজ ডট কম

সর্বশেষ