• ২০২৬ অগাস্ট ১৬, রবিবার, ১৪৩৩ শ্রাবণ ৩১
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:০৮ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

জৈন্তাপুরে প্রস্তাবিত পৌরসভা বাতিলের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

  • প্রকাশিত ১২:০৮ পূর্বাহ্ন রবিবার, অগাস্ট ১৬, ২০২৬
জৈন্তাপুরে প্রস্তাবিত পৌরসভা বাতিলের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন
Time Bangla news
জসীমউদ্দীন ক্রাইম রিপোর্টার গোয়াইনঘাট সিলেট প্রতিনিধি

জৈন্তাপুরে প্রস্তাবিত পৌরসভা বাতিলের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন


সিলেট থেকে :: জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবে ১৫ আগস্ট শনিবার বিকাল ৫টায় সচেতন নাগরিক ফোরাম আয়োজিত প্রস্তাবিত পৌরসভা বাতিলের দাবীতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয। এতে সংগঠনের আহবায়ক লিখিত বক্তব্যে বলেন গত ১৪ জুলাই ২০২৬ইং তারিখে নিজপাট ইউনিয়ন ও ২নং জৈন্তাপুর ইউনিয়নের ১২টি মৌজা দিয়ে একটি রূপরেখার মাধ্যমে প্রস্তাবিত জৈন্তাপুর পৌরসভার গেজেট প্রকাশ করে সরকার। আমরা এই অঞ্চলের সচেতন নাগরিক হিসেবে মনে করি জৈন্তাপুরে পৌরসভা বাস্তবায়নের এখনও কোন উপযুক্ততা নেই। সরকার সহ সংশ্লিষ্ট্য কর্তৃপক্ষের নিকট অধিকাংশ ভূল তথ্য উপস্থাপন করা হযেছে। প্রস্তাবিত পৌরসভার সীমানা নির্ধারনেও ব্যাক্তিগত স্বার্থ রক্ষায় নীতিমালা লঙ্গন করা হয়েছে।

সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার ১নং নিজপাট ইউনিয়ন ও ২নং জৈন্তাপুর ইউনিয়নের ১২টি মৌজাকে অন্তর্ভূক্ত করে প্রস্তাবিত জৈন্তাপুর পৌরসভা গঠনের যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন-২০০৯ এর বিধান এবং বাস্তব তথ্যের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। সরকার কর্তৃক প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে প্রস্তাবিত পৌরসভা এলাকার অধিকাংশ জনসাধারন ক্ষোভের সাথে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের নিকট প্রস্তাবিত পৌরসভা বাতিলের দাবী জানিয়ে মৌজা ভিত্তিক লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে। আমরা এলাকার সচেতন নাগরিক হিসেবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতি দ্বিমত পোষণ করছি, একই সাথে যে সকল তথ্যের ভিত্তিতে পৌরসভা গঠনে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা পূনরায় নিরপেক্ষভাবে মাঠ পর্যায় তদন্ত করার দাবী জানাচ্ছি। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, যেহেতু এই অঞ্চলটি পৌরসভার জন্য উপযোগী নয়, সেহেতু আমরা বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ পদ্ধতিতেই সন্তোষ্ট আছি। সর্বশেষ গত ১২ আগস্ট ১নং নিজপাট ও ২নং জৈন্তাপুর ইউনিয়নের প্রস্তাবিত পৌরসভা এলাকার সকল মৌজার হাজার হাজার মানুষের গণস্বাক্ষরিত আপত্তি পত্র জেলা প্রশাসক, সিলেট বরাবরে জমা প্রদান করা হয়েছে। আমাদের একটাই দাবী ভূল তথ্যের মাধ্যমে নয়, সঠিক তথ্যের মাধ্যমে নীতিমালা অনুযায়ী উপযুক্ততা সাপেক্ষে কার্যক্রম বাস্তবায়ন হতে হবে। অন্যতায় কোন রকম মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আমরা জৈন্তাপুরে পৌরসভা গঠন করতে চাই না।

এলাকাবাসী মনে করেন ভৌগলিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় কোন ক্রমেই জৈন্তাপুরে পৌরসভা গঠনের যৌক্তিকতা নেই। পৌরসভা আইন-২০০৯ এর ৩ ধারা অনুযায়ী পৌরসভা গঠনে প্রস্তাবিত এলাকায় শতকরা ৭৫% মানুষ অকৃষি পেশায় থাকার কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু বাস্তবে প্রস্তাবিত পৌরসভার অন্তর্গত ১২টি মৌজার শতকরা ৬০% থেকে ৭০% মানুষ কৃষির সাথে জড়িত। বৃহত একটি অংশ শ্রমিক ও দিনমজুর হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করছে। এই জনপদে নেই কোন শিল্প-কারখানা, শুধুমাত্র উপজেলা সদরের একটি বাজার ছাড়া আর কোথাও কোন ব্যবসা-বাণিজ্য নেই বললেই চলে। বালু উত্তোলনকারী শ্রমিক, ধান ও শাক-সবজি উৎপাদনকারী কৃষকদের উপর এক রকম অন্যায়ভাবে পৌরসভা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আইন অনুযায়ী প্রস্তাবিত পৌরসভা এলাকায় শতকরা ৩৩% জমি অকৃষি হওয়ার বিধান থাকলেও তা ৭৫% উল্লেখ পূর্বক মিথ্যা তথ্য প্রেরণ করা হয়েছে। নিজপাট ইউনিয়নে মোট জমির পরিমান ৮,৪২৪.৫৭ একর। এর মধ্যে অকৃষি জমির পরিমান মাত্র ৭৫৪.৬০ একর, যা শতকরা ৮.৯৫%। ২নং জৈন্তাপুর ইউনিয়নে মোট জমির পরিমান ১১,৪৪৮ একর। এর মধ্যে অকৃষি জমির পরিমান ৩,১৩৬ একর, যা শতকরা হারে ২৭.০৪%। এই দুই ইউনিয়নের ৪৮টি মৌজার মধ্যে মাত্র ১২টি মৌজা নিয়ে পৌরসভা গঠনের প্রস্তাব করা হলেও সামগ্রিকভাবে দেখা গেছে অকৃষি জমির শতকরা হার ৩৩% এর অনেক নিচে।

আইন অনুযায়ী একটি পৌরসভার জনসংখ্যা ৫০ হাজার হতে হয়। ২০২২ সালের জনশুমারী অনুযায়ী ১নং নিজপাট ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা ৩৭,১৮০ জন। ২নং জৈন্তাপুর ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা ৩৩,৮৫০ জন। দুই ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা ৭১,০৩০ জন। এখন প্রস্তাবিত পৌরসভার অন্তর্গত ১২টি মৌজার হিসাবে জনসংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে ২৬, ৮৫১ জন, যা বিধি মোতাবেক প্রয়োজনের চেয়ে অপ্রতুল। দুইটি ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা ৭১,০৩০ জন থেকে পৌরসভা প্রস্তাবনায় ১২টি মৌজায় জনসংখ্যা যদি ৫০ হাজার হয়, তবে অবশিষ্ট্য ৩৬টি মৌজার জনসংখ্যা ২১,০৩০ জন হওয়াটা কিভাবে সম্ভব। পৌরসভা গঠন প্রস্তাবে যে বা যারা কাজ করেছেন, তারা নিশ্চয় মিথ্যার আশ্রয় নিে ছেন দাবী করে বলা হয়, ভূল তথ্য উপস্থাপন করে জৈন্তাপুরে পৌরসভা গঠন শুধুমাত্র নেতৃত্বের বিকাশ ঘটনানো ছাড়া আর কিছু না। প্রস্তাবিত পৌরসভার ১২ টি মৌজার মধ্যে ৩টি মৌজা সরকারী তপশীল অনুযায়ী হাওর। এর মধ্যে কেন্দ্রী হাওর, ডিবির হাওর ও বিরাইমারা হাওরের শতকরা ৯০% মানুষ কৃষি এবং ডিবির হাওরের শতকরা ৮০% মানুষ মৎস্যজীবি।

এই অবস্থায় আমরা এই জনপদের কৃষক-শ্রমিক ও হতদরিদ্র মানুষের মতামতের ভিত্তিতে আপনাদের মাধ্যমে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যে রূপরেখা দিয়ে প্রস্তাবিত পৌরসভার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, তা আমরা কোন অবস্থাতে মেনে নিতে পারি না। আমরা চাই পুনরায় নিরপেক্ষভাবে সরেজমিন তদন্ত এবং সঠিক তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হউক। অন্যতায় ভূল তথ্য ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে পৌরসভা গঠনের প্রক্রিয়া অনতীবিলম্বে বাতিলের দাবী জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনৈ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিজপাট ও জৈন্তাপুর ইউপির সচেতন নাগরিক ফোরামের আহবায়ক মোঃ জালাল উদ্দিন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ন আহবায়ক বুরহান আহমেদ, সদস্য সচিব আব্দুল কাইয়ুম সরকার, সদস্য কামাল হোসেন প্রমুখ।

সর্বশেষ