এলপিজি (LPG) সিলিন্ডার ব্যাকআপ রাখা: রান্নাঘরে একটি ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ও ডাবল বার্নার রেগুলেটর যুক্ত করে রাখুন। সকালে বা দরকারি সময়ে পাইপলাইনের গ্যাসের চাপ কমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে সিলিন্ডারে স্যুইচ করা যায়।
ইনসুলেটেড বা থার্মাল কুকিং পদ্ধতি: গ্যাস যখন সামান্য থাকে, তখন খাবার ফুটন্ত অবস্থায় এনে ঢাকনা দিয়ে ভালো কোনো থার্মাল কুকার বা তাপ রোধনকারী বাক্সে রেখে দিন। জমানো তাপেই খাবার ধীরে ধীরে পুরোপুরি সেদ্ধ হয়ে যাবে, অতিরিক্ত গ্যাসের প্রয়োজন হবে না।
২. সিএনজি পাম্প ও গাড়ির ক্ষেত্রে করণীয়:
অফ-পিক সময়ে গ্যাস নেওয়া: সিএনজি পাম্পগুলোতে ভিড় ও প্রেশার কম থাকে রাতে (রাত ১১টার পর) অথবা খুব ভোরে (সকাল ৬টার আগে)। এই সময়ে রিফুয়েলিং করলে সময় ও গ্যাস দুটোই মিলবে।
ডিউয়াল-ফুয়েল (অকটেন/পেট্রোল) চালু রাখা: গাড়ির কেবল সিএনজি সিস্টেমের ওপর ভরসা না করে পেট্রোল/অকটেন লাইনও ভালো রাখুন, যাতে পাম্পের দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে না হয়।
দ্বিতীয় অংশ: জাতীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী সমাধান
দেশের নিজস্ব গ্যাস ক্ষেত্রগুলোর মজুত কমে যাওয়া এবং আমদানিকৃত এলএনজি (LNG)-র ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণেই মূলত এই সংকট। স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারকে কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে হবে:
দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা: ভোলা ও সিলেটের মতো বিদ্যমান গ্যাস ক্ষেত্রগুলোতে আরও গভীর কূপ খনন (Deep Drilling) করা এবং বঙ্গোপসাগরে অফশোর গ্যাস ব্লকগুলোতে বিদেশি কোম্পানির মাধ্যমে দ্রুত গ্যাস অনুসন্ধান শুরু করা।
স্থায়ী এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ: সাগরে ভাসমান টার্মিনালগুলোর (FSRU) ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মহেশখালী বা মাতাবাড়ির মতো জায়গায় স্থায়ী ল্যান্ড-বেসড এলএনজি টার্মিনাল তৈরি করা, যাতে দুর্যোগেও সরবরাহ বন্ধ না হয়।
সিস্টেম লস ও অপচয় বন্ধ:
আবাসিক গ্রাহকদের জন্য দ্রুত প্রিপেইড স্মার্ট মিটার চালু করা, যাতে অপরিকল্পিত অপচয় বন্ধ হয়।
আবাসিক খাতে পাইপলাইনের গ্যাস ধীরে ধীরে বন্ধ করে পুরোপুরি এলপিজিতে (সিলিন্ডার) রূপান্তর করা, যাতে পাইপলাইনের মূল গ্যাসকে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শিল্পকারখানা ও সিএনজি পাম্পে নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করা যায়।
মতামত দিন