কক্সবাজার রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে ৫০০ কোটি টাকা দামের সরকারি প্লট দখলে নিতে গভীর রাতে টিনের গেরা!
কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোনের বাতিল হওয়া ৫৯টি প্লটে যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বা লিজ দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী সরকার ৫৭টি প্লট ফিরে পায় এবং ১৯ সালে প্লট বাতিলের সিদ্ধান্ত বৈধ বলে ঘোষণা করে। শর্ত ভঙ্গ করায় জেলা প্রশাসন এসব প্লটের ইজারা বাতিল করে জমি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
সেই বাতিল হওয়া প্লটের সুগন্ধা পয়েন্ট-এ প্রবেশের ডান পাশে কয়েক'শো কোটি টাকার সরকারি জমি মধ্যরাতে দখল। আশেপাশের ব্যবসায়ী ও হকারদের সাথে কথা বলে জানা যায়- গত শনিবার (১৫ আগস্ট) মধ্যরাতে এক ঘন্টার মধ্যে ২০-৩০ শ্রমিক তাড়াহুড়ো করে টিন ও বাঁশ দিয়ে এই জায়াগাটি ঘেরাও সম্পন্ন করেন।
কোটি কোটি টাকার সরকারি জমি দখলে নীরব প্রশাসন? আর জনগণ বলছেন- এমপি মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে দখলের নেতৃত্বে ছিলেন মন্ত্রীর সিকিউরিটি গার্ড পরিচয়ের রাসেল নামের এক ব্যক্তি।
অথচ ২০০৩ সালে সমুদ্রসৈকত–সংলগ্ন ১৩০ একর সরকারি খাসজমি নিয়ে হোটেল-মোটেল জোন গড়ে তোলে তৎকালীন চারদলীয় সরকার। ওই জমিতে ৮৭টি প্লট তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তিদের নামে ৯৯ বছরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।
লিজের শর্ত ছিল- ১ বছরের মধ্যে কাজ শুরু ও ৩ বছরের মধ্যে শেষ করার নিয়ম ছিল। সেই শর্ত না মানায় ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি ৫৯টি প্লটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়। কিন্তু তাও দীর্ঘ ১০ বছর আইনি লড়াইয়ের পর হাইকোর্ট সরকারের পক্ষে রায় দেয় এবং ২০১৯ সালে প্লট বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। তারমধ্যে দুটি প্লট বৈধ ঘোষিত হলেও বাকি ৫৭টি প্লটগুলোতে সব ধরনের নির্মাণ বা লিজ দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ।
এছাড়া বাতিল হওয়া প্লটের মধ্যে এস আলম গ্রুপের প্রায় ৩ একর সরকারি জমি গভীর রাতে টিনের ঘেরা দিয়ে দখলের অভিযোগে পুরো শহর জুড়ে তীব্র প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা ঝড়। এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়! এটি জনগণের সম্পদের ওপর প্রকাশ্য আগ্রাসনের অভিযোগ। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সাধারণ জনগণ!
মতামত দিন