স্ত্রী রাস্তায় ফেলে যাওয়া সৌদি প্রবাসী জামাল উদ্দিনের শেষমেশ মৃত্যুই হল।
দীর্ঘ ১২ বছর সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর আপনজনদের অবহেলার শিকার হওয়া টাঙ্গাইলের সখীপুরের সৌদি প্রবাসী জামাল উদ্দিন (৫৫) আর নেই। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা গেছেন।
জানা গেছে, দীর্ঘ ১২ বছর সৌদি আরবে কাজ করার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে প্রায় তিন মাস আগে দেশে ফেরেন জামাল উদ্দিন। গত ১ আগস্ট রাতে গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে তাকে টাঙ্গাইলের সখীপুরে এনে একটি রাস্তার পাশে অসুস্থ অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে তার স্ত্রী ও সন্তানদের বিরুদ্ধে।
বৃষ্টির মধ্যে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা জামাল উদ্দিনকে স্থানীয় এক ভাতিজি ও প্রতিবেশীরা উদ্ধার করেন। পরে তাকে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় এলাকাবাসী ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তার চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করা হয়।
এদিকে জামাল উদ্দিনের স্ত্রী রিনা আক্তারের দাবি, ঘটনার প্রায় আড়াই মাস আগেই তিনি জামাল উদ্দিনকে তালাক দিয়েছেন। আইনগতভাবে তিনি আর তার স্বামী না থাকায় তাকে তার নিজ এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তবে জীবনের শেষ সময়ে একজন অসুস্থ মানুষকে এভাবে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দেয়। দীর্ঘ প্রবাসজীবনে উপার্জিত অর্থ পরিবারের জন্য ব্যয় করার পর শেষ বয়সে জামাল উদ্দিনের এমন পরিণতি অনেকের কাছেই বেদনাদায়ক ও অমানবিক বলে মনে হয়েছে।
সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন থাকার পর পরবর্তীতে তিনি ভাতিজির বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
জামাল উদ্দিনের মৃত্যুর পর তার দাফন নিয়েও দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দের সহযোগিতা ও চাঁদা সংগ্রহ করে তার দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।
দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে জীবনের শেষ সময়ে জামাল উদ্দিনের এমন নিঃসঙ্গ ও করুণ মৃত্যু এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
মতামত দিন