• ২০২৬ অগাস্ট ২৫, মঙ্গলবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ১০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:০৮ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

১১ বছরের শিশুর সন্তান: ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকের সঙ্গে মিল

  • প্রকাশিত ০৩:০৮ অপরাহ্ন মঙ্গলবার, অগাস্ট ২৫, ২০২৬
১১ বছরের শিশুর সন্তান: ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকের সঙ্গে মিল
Time Bangla news
মোঃ সেলিম মিয়া বিশেষ প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ

১১ বছরের শিশুর সন্তান: ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকের সঙ্গে মিল


নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ধর্ষণের শিকার ১১ বছরের এক শিশুর গর্ভে জন্ম নেওয়া কন্যাশিশুর ডিএনএ পরীক্ষায় মামলার অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরের সঙ্গে জৈবিক মিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

সোমবার নেত্রকোণা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) নুরুল কবীর রুবেল এ তথ্য জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র প্রস্তুতের আগে মতামতের জন্য ডিএনএ প্রোফাইলের প্রতিবেদনটি তাঁকে দেখান। সেখানে শিশুটির নবজাতক কন্যাসন্তান ও মামলার আসামি সাগরের ডিএনএ প্রোফাইলে মিল পাওয়া গেছে।

পিপি নুরুল কবীর রুবেল বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন অনুযায়ী নবজাতকের জৈবিক পিতৃত্বের সঙ্গে আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরের মিল রয়েছে। শিগগিরই আদালতে ডিএনএ প্রতিবেদন সংযুক্ত করে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। অভিযোগপত্র দাখিলের পর দ্রুত বিচার কার্যক্রম শেষ করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

যেভাবে ঘটনা সামনে আসে

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় চার বছর আগে আমান উল্লাহ মাহমুদী একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটির মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সে নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। অন্যদিকে, তার মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।

গত ১৮ এপ্রিল মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পর চিকিৎসক শিশুটিকে অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান। বিষয়টি জানার পর ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার পর ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা এলাকা থেকে র‌্যাবের অভিযানে সাগর গ্রেপ্তার হন। পরদিন আদালত তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁর ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

সেফ হোমে শিশুর সন্তান প্রসব

মামলার পর শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালতের নির্দেশে ১২ মে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়।

সেখানে চিকিৎসা ও নিরাপত্তার মধ্যে থাকার পর গত ২ জুলাই শিশুটি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়।

নবজাতকের পিতৃত্ব নিশ্চিত করতে পুলিশ ৯ জুলাই আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি চেয়ে আবেদন করে। পরে আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিলেটের ওই সেফ হোমে নবজাতকের নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বর্তমানে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন মামলার তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রতিবেদনসহ অভিযোগপত্র দাখিলের পর মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যাবে।

সর্বশেষ