• ২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৫, শনিবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:০৯ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

রাতের আঁধারে বিষ, সকালে পুকুরজুড়ে মাছের লাশ*

  • প্রকাশিত ০৬:০৯ অপরাহ্ন শনিবার, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
রাতের আঁধারে বিষ, সকালে পুকুরজুড়ে মাছের লাশ*
Time Bangla news
ফজলে এলাহি সুমন সাভার প্রতিনিধি

*রাতের আঁধারে বিষ, সকালে পুকুরজুড়ে মাছের লাশ* 


সাড়ে ১৬ হাজার মাছ নিধনের অভিযোগ, ক্ষতি প্রায় ১২ লাখ টাকা

গভীর রাতের কোনো একসময়। এক একর আয়তনের পুকুরটিতে তখনও ছুটে বেড়াচ্ছিল হাজারো মাছ। কিন্তু সকাল হতেই বদলে গেল দৃশ্যপট। পানির ওপর ভেসে উঠতে শুরু করল একের পর এক মাছের মরদেহ। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পুকুরজুড়ে জমে গেল মাছের স্তূপ।

গাজীপুরের শ্রীপুরে এমনই এক ঘটনায় প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার মাছ মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মৎস্যচাষি বাহরাম বাদশাহর দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তার পুকুরে বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে তার প্রায় ১২ লাখ টাকার সরাসরি ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে দুই মাস পর প্রায় ৩০ লাখ টাকায় মাছ বিক্রির সম্ভাবনাও ভেস্তে গেছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের সিংগারদিঘী গ্রামের জগদীশ মোড় এলাকায় পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে এসব অভিযোগ করেন বাহরাম বাদশাহ।

 *খাবার দেওয়ার পরই বিপর্যয়* 

বাহরামের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলেও পুকুরের মাছকে নিয়মমতো খাবার দেওয়া হয়। তখন অস্বাভাবিক কোনো পরিস্থিতি চোখে পড়েনি। কিন্তু পরদিন সকালে পুকুরের মালিক মো. আমিন তাকে জানান, পানিতে মাছ মরে ভেসে উঠছে।

প্রথমে বিষয়টিকে স্বাভাবিক কোনো কারণে মাছের মৃত্যু বলে ধারণা করেন বাহরাম। পুকুরে গ্যাসের সৃষ্টি কিংবা অক্সিজেনের ঘাটতি হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ হয়। দ্রুত পানিতে অক্সিজেন বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। গ্যাসের ওষুধও প্রয়োগ করা হয়।

কিন্তু কোনো উদ্যোগেই থামেনি মাছের মৃত্যু।

প্রথমে কয়েক হাজার মাছ মারা যায়। পরে পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ আকার নেয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুকুরের পানিতে থাকা প্রায় সব মাছই মরে ভেসে উঠতে থাকে।

 *এক পুকুরে বিনিয়োগ ছিল ১২ লাখ টাকা* 

বাহরাম বাদশাহ মাওনা ইউনিয়নের সিংগারদিঘী মেডিকেল মোড় এলাকার আফাজ উদ্দিনের ছেলে। জগদীশ মোড় এলাকার মো. আমিনের কাছ থেকে পুকুরটি ভাড়া নিয়ে মাছ চাষ করছিলেন তিনি।

পুকুরে আগে থেকেই রুই, তেলাপিয়াসহ প্রায় তিন হাজার মাছ ছিল। পরে সেখানে আরও প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার পাঙাশ ছাড়েন তিনি। পাঙাশগুলো এরই মধ্যে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের হয়ে উঠেছিল।

বাহরামের হিসাব অনুযায়ী, মাছ চাষে এ পর্যন্ত তার প্রায় ১২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আরও প্রায় দুই মাস পর মাছগুলো বাজারজাত করার পরিকল্পনা ছিল। তখন প্রায় ৩০ লাখ টাকা বিক্রির আশা করেছিলেন তিনি।

কিন্তু তার আগেই পুকুরের পানিতে ভেসে উঠল সেই সম্ভাবনার মৃত্যু।

 *স্বাভাবিক মৃত্যু, নাকি বিষপ্রয়োগ?* 

মাছের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তবে মাছচাষি এটিকে নিছক রোগ, গ্যাস বা অক্সিজেন সংকটজনিত মৃত্যু হিসেবে মানতে নারাজ।

তার অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে কেউ পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেছে। আর সেই বিষক্রিয়াতেই একসঙ্গে হাজার হাজার মাছ মারা গেছে।

তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন বা নমুনা পরীক্ষার ফল এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে পুকুরে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া বাকি।

 *থানায় লিখিত অভিযোগ* 

ঘটনার পর শুক্রবার বিকেলে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বাহরাম বাদশাহ। তিনি ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

শ্রীপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, পুকুরে মাছ মারা যাওয়ার বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি। বিষয়টি জানালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে মাছের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেত।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল আলম বলেন, মাছচাষির অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এখন তদন্তের অপেক্ষা—পুকুরের পানিতে আসলে কী মিশেছিল, কীভাবে একসঙ্গে সাড়ে ১৬ হাজার মাছ মারা গেল এবং এর পেছনে সত্যিই পূর্বশত্রুতার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিই সামনে আসার বিষয়।

সর্বশেষ