• ২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০, বৃহস্পতিবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ২৬
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৯ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

ভাদ্র মাসে দিনাজপুরে ফুলের বিক্রি কম, নেপথ্যে যে কারণ

  • প্রকাশিত ১২:০৯ অপরাহ্ন বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ভাদ্র মাসে দিনাজপুরে ফুলের বিক্রি কম, নেপথ্যে যে কারণ
টাইম বাংলা নিউজ
মোয়াজ্জেম হোসেন, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি

ভাদ্র মাসে বিয়ের আয়োজন কম, রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানও আগের তুলনায় কমে গেছে। পাশাপাশি ফুলের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজন ছাড়া ফুল কিনছেন না ক্রেতারা। সব মিলিয়ে দিনাজপুরে ফুলের ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন খরচ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কয়েক মাসের ব্যবধানে ফুলের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। তিন মাস আগে এক হাজার গাঁদা ফুল ৩০০-৫০০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন তা কিনতে হচ্ছে ১ হাজার-১ হাজার ২০০ টাকায়। রজনীগন্ধা ৫-৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৫-১৭ টাকা এবং দেশি গোলাপ ২৫০-৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার-১ হাজার ২০০ টাকা হয়েছে।

বিদেশি ফুলের দামও বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, বিদেশি গোলাপ প্রতি পিস ১৩০-১৪০ টাকা দরে কিনে প্রায় ২০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। জিপসাম ফুলের কেজি প্রায় ৩ হাজার টাকা এবং সূর্যমুখী ফুলের পিস ১২০ টাকা দরে কিনে ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন তারা।

ক্রেতারা বলছেন, আগে যেখানে অল্প টাকায় ফুলের তোড়া বা কয়েকটি গোলাপ কেনা যেত, এখন একই পরিমাণ ফুল কিনতে অনেক বেশি খরচ হচ্ছে। ফলে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ফুল কেনা কমিয়ে দিয়েছেন তারা।

ফুল ব্যবসায়ীরা জানান, বিয়ের অনুষ্ঠান কমে যাওয়ার পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও ফুলের ব্যবহার কমেছে। রাত ৮টার মধ্যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সন্ধ্যার পর আড্ডা ও বিভিন্ন আয়োজন কমে যাওয়াও ফুলের চাহিদায় প্রভাব ফেলেছে।

শহরের ফুল ব্যবসায়ী শুভ রায় বলেন, ফুলের দাম বৃদ্ধি ও চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েছেন। তার ভাষ্য, দুপুর পর্যন্ত অনেক সময় কোনো বিক্রিই হয় না। ব্যবসা মন্দা হওয়ায় কয়েকজন ফুল ব্যবসা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন।

আরেক ব্যবসায়ী খুরশিদ আলম বলেন, ৩৩ বছরের ব্যবসায় এমন মন্দা আগে দেখেননি। আগে একটি দোকানে প্রতিদিন ৪০-৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ৫-১০ হাজার টাকায়। ফুল বিক্রি না হওয়ায় প্রতিদিনই কিছু ফুল নষ্ট হচ্ছে এবং লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

দিনাজপুর ফুলঘরের মালিক মো. রিয়াজ জানান, জেলায় বাণিজ্যিকভাবে ফুলের উৎপাদন খুবই কম। ঢাকা ও যশোর থেকে ফুল এনে ব্যবসা করতে হয়। পরিবহনের সময়ও অনেক ফুল নষ্ট হয়ে যায়। ফুল সংরক্ষণের জন্য জেলায় সরকারি উদ্যোগে হিমাগার স্থাপনের দাবি জানান তিনি।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. আনিছুজ্জামান বলেন, দিনাজপুরে ফুলের চাষ খুবই সীমিত। শীতকালে কিছু গাঁদা ও গোলাপ উৎপাদন হলেও তা চাহিদা পূরণের মতো নয়। ফলে জেলার ফুলের বাজার মূলত ঢাকা ও যশোরের সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।

সর্বশেষ