শাজাহানপুরে চুরির অপবাদে ৬ মাস কারাভোগ, নিরাপত্তা ও তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন
বগুড়ার শাজাহানপুরে স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রায় ছয় মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন মরিয়ম খাতুন (৩৪) নামে এক গৃহকর্মী। তাকে চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর ও একটি বাসায় আটকে রাখার অভিযোগও উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও মরিয়মের নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তার স্বজন ও এলাকাবাসী।
গত কাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বি-ব্লক এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মরিয়ম খাতুন উপজেলার ফুলকোট গ্রামের মৃত মহির আলীর মেয়ে।
মানববন্ধনে মরিয়মের বড় বোন মমতাজ খাতুন (৩৬) অভিযোগ করে বলেন, অভাবের সংসারে জীবিকা নির্বাহের জন্য মরিয়ম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে আসছিলেন। গত ২৪ মার্চ সকালে তিনি রহিমাবাদ এলাকায় হাসান আলীর বাসায় কাজে যান। সেখানে হাসান আলীর স্ত্রী হাফিজা খাতুন তাকে অন্য বাসায় কাজ না করার জন্য নিষেধ করেন বলে দাবি করেন মমতাজ।
মমতাজের অভিযোগ, একই দিন দুপুরে হাফিজা খাতুন তার স্বামীসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মরিয়মের গ্রামের বাড়িতে যান এবং তার বিরুদ্ধে বাসা থেকে স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগ তোলেন। এ সময় তাদের বাড়িঘরে তল্লাশি ও ভাঙচুর করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগী মরিয়ম খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ইফতারের পর হাফিজা খাতুন তার বাসায় থাকার কথা বলে তাকে সঙ্গে নিয়ে যান। সেখানে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে স্বর্ণালংকার চুরির দায় স্বীকার করানোর জন্য মানসিক চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। রাত হয়ে গেলেও তাকে বাড়ি ফিরতে দেওয়া হয়নি।
মরিয়মের দাবি, তার মা ও বোন তাকে খুঁজতে হাফিজা খাতুনের বাসায় গেলে দরজা খুলতে বিলম্ব করা হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে তার মা শাজাহানপুর থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
এরপর স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মরিয়মকে আদালতে পাঠানো হয়। প্রায় ছয় মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্ত হয়েছেন বলে জানান তার স্বজনরা।
মরিয়ম খাতুন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি করেন তিনি।
মতামত দিন