• ২০২৬ অক্টোবর ০৫, সোমবার, ১৪৩৩ আশ্বিন ২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১০ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

*কোটি টাকার ফুটওভার ব্রিজ, সিঁড়ি অচল।*

  • প্রকাশিত ১০:১০ অপরাহ্ন সোমবার, অক্টোবর ০৫, ২০২৬
*কোটি টাকার ফুটওভার ব্রিজ, সিঁড়ি অচল।*
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ।

*কোটি টাকার ফুটওভার ব্রিজ, সিঁড়ি অচল।* 


 *উপশিরোনাম:* বাঁশ-কাঠে বন্ধ এস্কেলেটর, কোথাও ভাঙা কাচ-উন্মুক্ত যন্ত্রাংশ; আবর্জনার স্তূপে পরিণত রাজধানীর পথচারীবান্ধব অবকাঠামো। 

রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে এস্কেলেটর-সংবলিত একাধিক ফুটওভার ব্রিজ। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব স্থাপনার অনেকগুলোর চলন্ত সিঁড়ি দীর্ঘদিন ধরে অচল। কোথাও বাঁশ-কাঠ দিয়ে প্রবেশপথ বন্ধ, কোথাও ভাঙা কাচ ও উন্মুক্ত যন্ত্রাংশ; আবার কোনো কোনো জায়গায় অচল এস্কেলেটর পরিণত হয়েছে আবর্জনার স্তূপে।

সম্প্রতি ফার্মগেট, বনানী সৈনিক ক্লাব, বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ড ও যমুনা ফিউচার পার্কসংলগ্ন ‘আবরার আহমেদ ফুটওভার ব্রিজ’ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এতে বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু, অসুস্থ ও শারীরিকভাবে দুর্বল পথচারীদের ভোগান্তি বাড়ছে।

ফার্মগেটে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফুটওভার ব্রিজটি উদ্বোধন করা হয় ২০২৩ সালের অক্টোবরে। নির্মাণের কয়েক সপ্তাহ পরই এর এস্কেলেটরের প্রবেশপথ বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। পরবর্তী সময়ে কিছুদিন চালু থাকলেও বর্তমানে সেটি আবার অচল। ধাপ ও আশপাশে জমেছে ধুলা-ময়লা, কোথাও পড়ে আছে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য।

বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ডের ফুটওভার ব্রিজের দুই পাশের এস্কেলেটরও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। স্থানীয়দের দাবি, চার-পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে সেগুলো সচল নেই। সরেজমিনে কিছু অংশের কাচ ও সুরক্ষা কাঠামো ভাঙা এবং যন্ত্রাংশ উন্মুক্ত অবস্থায় দেখা গেছে।

২০১৪ সালে বনানী সৈনিক ক্লাব এলাকায় এস্কেলেটরযুক্ত ফুটওভার ব্রিজ স্থাপন করা হয়। পরে এটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, চালুর পর থেকেই চলন্ত সিঁড়িটি নিয়মিত সচল রাখা যায়নি।

এদিকে ২০১৯ সালে বাসচাপায় বিইউপি শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর যমুনা ফিউচার পার্কসংলগ্ন এলাকায় নিরাপদ পারাপারের জন্য নির্মিত হয় ‘আবরার আহমেদ ফুটওভার ব্রিজ’। ২০২১ সালে উদ্বোধনের পর থেকেই এর এস্কেলেটর অনিয়মিতভাবে চালু রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, যন্ত্রাংশ চুরির কারণে বেশির ভাগ এস্কেলেটর অচল হয়ে পড়েছে। কিছু মেরামত করে চালু করা হয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমানে সবগুলো বন্ধ নয়; ভালো অবস্থায় মোট ছয়টি স্থানে চলন্ত সিঁড়ি রয়েছে। বিমানবন্দর এলাকার অচল অংশ সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও কাজ করার কথা জানান তিনি।

নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান মনে করেন, প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিশ্চিত না করেই প্রযুক্তিনির্ভর এস্কেলেটর স্থাপন করা হচ্ছে। ঢাকার ধুলাবালি ও পরিবেশে এসব যন্ত্র দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাঁর মতে, সহজ ও ব্যবহারবান্ধব অবকাঠামোর বদলে ব্যয়বহুল প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্পে অতিরিক্ত আগ্রহ জনগণের অর্থ অপচয়ের কারণ হতে পারে।

ফলে শুধু ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ নয়, এগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সর্বশেষ