*ঢাকা পরিষ্কারে জাপানি দল! প্রশ্নে আমাদের নাগরিক সচেতনতা।*
**উপশিরোনাম:*
নিজের শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে ব্যর্থতার প্রশ্ন, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ৩০ সদস্যের জাপানি দলের সফর।
ঢাকা শহরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিতে আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাপান থেকে ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আয়োজনে এবং ঢাবি ছাত্রদলের সহযোগিতায় ‘ক্লিনিং ডে’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
উপাচার্য বলেন, জাপানের ওই প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে। তাদের সফরে সম্মতিও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে দলটি বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেবে।
তিনি বলেন, বিদেশি একটি দলকে ঢাকা পরিষ্কার করতে আসতে হচ্ছে—এটি যেমন আনন্দের, তেমনি আমাদের জন্য বিব্রতকরও। নিজেদের শহর ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে। অন্যের ওপর নির্ভর না করে প্রতিদিনের অভ্যাসের অংশ হিসেবেই পরিচ্ছন্নতার চর্চা গড়ে তুলতে হবে।
শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, হলের কক্ষ বা বারান্দায় খাবারের উচ্ছিষ্ট ও পাত্র ফেলে রাখার কারণে পানি জমে মশার লার্ভা তৈরি হচ্ছে। এতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে। তাই পরিচ্ছন্নতা শুধু এক দিনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে বছরের ৩৬৫ দিনই বজায় রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, দেশের বিভিন্ন পরিবর্তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিকভাবে নেতৃত্ব দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও নগর পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, টিএসসি ও ক্যাম্পাস এলাকায় ময়লা-আবর্জনা না ফেলার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে প্রয়োজন হলে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জনবল দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
টিএসসি, শাহবাগ ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকার পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখতে ভাসমান হকারদের নিয়ন্ত্রণের ওপরও গুরুত্ব দেন ডিএসসিসির প্রশাসক। হকারদের তালিকাভুক্ত করে পরিচয়পত্রের আওতায় আনার প্রস্তাব দেন তিনি।
আবদুস সালাম বলেন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান কোনোভাবেই অপরিচ্ছন্ন রাখা উচিত নয়।
মতামত দিন