• ২০২৬ অক্টোবর ১৭, শনিবার, ১৪৩৩ কার্তিক ২
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:১০ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

এআই ও সবুজ প্রযুক্তির চাহিদায় বদলাচ্ছে কারিগরি শিক্ষা, চীনের সঙ্গে যৌথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগ।*

  • প্রকাশিত ১০:১০ অপরাহ্ন শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
এআই ও সবুজ প্রযুক্তির চাহিদায় বদলাচ্ছে কারিগরি শিক্ষা, চীনের সঙ্গে যৌথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগ।*
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ।

*এআই ও সবুজ প্রযুক্তির চাহিদায় বদলাচ্ছে কারিগরি শিক্ষা, চীনের সঙ্গে যৌথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগ।* 


 *উপশিরোনাম:* শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম, গুরুত্ব পাচ্ছে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ। 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল প্রযুক্তি ও সবুজ প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ব শ্রমবাজারের সঙ্গে তাল মেলাতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ (টিভেট) ব্যবস্থার আধুনিকায়নে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ। শিক্ষাকে সরাসরি কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাহিদাভিত্তিক পাঠ্যক্রম, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ইকোসিস্টেম। একই সঙ্গে চীনের সহযোগিতায় কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও যৌথ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।

সম্প্রতি চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের জাতীয় বক্তব্যে এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার জনগণ। জাতীয় অগ্রগতির জন্য এই মানবসম্পদকে দক্ষ ও উৎপাদনমুখী করে গড়ে তোলা জরুরি। ভবিষ্যতের অর্থনীতিতে টিকে থাকতে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে প্রযুক্তিগত জ্ঞান, ডিজিটাল দক্ষতা এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাও প্রয়োজন।

তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষা এমন একটি সংযোগব্যবস্থা, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জ্ঞানকে কর্মক্ষেত্রের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে এবং তরুণদের সম্ভাবনাকে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করে। এ লক্ষ্যেই দেশের টিভেট ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 *শিল্পের চাহিদায় সাজবে শিক্ষা* 

কারিগরি শিক্ষা সংস্কারের অংশ হিসেবে পাঠ্যক্রমকে শিল্পখাতের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে শিক্ষকদের জ্ঞান ও দক্ষতা হালনাগাদ এবং শিক্ষার্থীদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি কাজের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোর মাধ্যমে দক্ষতার স্বীকৃতি, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং জীবিকাভিত্তিক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণও এ উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকারের লক্ষ্য, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা।

বিশেষ করে এআই, ডিজিটালাইজেশন ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসারের ফলে শ্রমবাজারে যেসব নতুন দক্ষতার চাহিদা তৈরি হচ্ছে, সেগুলোকে কারিগরি শিক্ষার মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 *চীনের সঙ্গে সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা* 

কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নে চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগানোর উদ্যোগও জোরদার করা হচ্ছে। গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ওই সফরে দুই দেশ শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এ ধারাবাহিকতায় কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু, বৃত্তির সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসারে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

তিয়ানজিনে চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী রেন ইউছুয়েনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন এবং দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে একটি ‘বাংলাদেশ-চীন যৌথ কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

 *আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থান* 

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের শিক্ষামন্ত্রী হুয়াই জিনপেং, দেশটির স্টেট কাউন্সিলের ভাইস প্রিমিয়ার দিং শুয়েশিয়াং, তিয়ানজিনের মেয়র ঝাং গং, মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি এবং ইউনেসকোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে শ্রমবাজারের চাহিদাও দ্রুত বদলাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের ব্যবধান কমানো এবং শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য।

সর্বশেষ