• ২০২৬ নভেম্বর ০৩, মঙ্গলবার, ১৪৩৩ কার্তিক ১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:১১ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

এআইয়ের অবকাঠামো গড়তে বন উজাড়, চার লাখ গাছ কাটার পর গুগলের প্রকল্পে স্থগিতাদেশ।*

  • প্রকাশিত ০৪:১১ অপরাহ্ন মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৩, ২০২৬
এআইয়ের অবকাঠামো গড়তে বন উজাড়, চার লাখ গাছ কাটার পর গুগলের প্রকল্পে স্থগিতাদেশ।*
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ।

*এআইয়ের অবকাঠামো গড়তে বন উজাড়, চার লাখ গাছ কাটার পর গুগলের প্রকল্পে স্থগিতাদেশ।* 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিস্তারে বিশ্বজুড়ে যখন ডেটা সেন্টার নির্মাণের প্রতিযোগিতা চলছে, তখন পরিবেশের ওপর এর বিরূপ প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে ফিনল্যান্ডে। গুগলের ডেটা সেন্টার নির্মাণকে কেন্দ্র করে দেশটির দুটি এলাকায় চার লাখের বেশি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন সম্পন্ন না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রকল্পের প্রাথমিক নির্মাণকাজ সাময়িক বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

উত্তর ফিনল্যান্ডের মুহোস ও ওটানমাকি এলাকায় গুগলের ডেটা সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা ঘিরে এ বিতর্কের সূত্রপাত। মুহোসে প্রায় ৩৩০ হেক্টর জমিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দুই এলাকার প্রকল্পের জন্য ইতোমধ্যে চার লাখের বেশি গাছ কাটা হয়েছে। এর মধ্যে মুহোসে আড়াই লাখের বেশি এবং ওটানমাকিতে দেড় লাখের বেশি গাছ উজাড় করা হয়েছে বলে পরিবেশবিদদের ধারণা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু গাছ কেটেই ক্ষান্ত হয়নি প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা; সরিয়ে ফেলা হয়েছে মাটির ওপরের উর্বর স্তরও। এতে বিস্তীর্ণ বনভূমি পরিণত হয়েছে গাছের শিকড় ও কাদাপানিতে ভরা বিরান এলাকায়। বনাঞ্চল থেকে বের হওয়া বাদামি রঙের পানি আশপাশের জলাধার হয়ে ওলুজোকি নদীতে মিশছে। এতে নদীর পানি দূষিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশকর্মীরা।

 *পরিবেশগত মূল্যায়ন ছাড়াই কাজের অভিযোগ* 

ফিনল্যান্ডের লাইসেন্সিং অ্যান্ড সুপারভিশন অথরিটি প্রয়োজনীয় পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন সম্পন্ন না হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মুহোস ও ওটানমাকিতে প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

এ ঘটনায় গুগলের ফিনল্যান্ড শাখার প্রধান আন্তি জারভিনেন দুঃখ প্রকাশ করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তৎকালীন আইনি পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের ধারণার ভিত্তিতেই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পাওয়ার পর নির্মাণের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে গুগল।

 *বিপন্ন বন্যপ্রাণী, বাড়ছে পরিবেশগত উদ্বেগ* 

বন উজাড়ের কারণে স্থানীয় বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা। তাদের ভাষ্য, বনাঞ্চল হারিয়ে নেকড়ের মতো প্রাণী লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিরল তিন আঙুলের কাঠঠোকরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাসস্থলও।

বন ধ্বংসের পাশাপাশি নির্মাণকাজের শব্দ, মাটির পরিবর্তন এবং পানিদূষণের আশঙ্কা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। পরিবেশকর্মীদের মতে, একবার গড়ে ওঠা প্রাকৃতিক বন কেটে ফেলার পর নতুন করে গাছ লাগালেই আগের বাস্তুতন্ত্র ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

 *উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বনাম প্রকৃতির ক্ষতি* 

ফিনল্যান্ডের শীতল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত জমি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর কারণে দেশটি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ডেটা সেন্টার স্থাপনের আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোরও প্রত্যাশা রয়েছে দেশটির।

গুগল মুহোসে ১৩০ হেক্টর জমিতে নতুন করে গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তবে পরিবেশকর্মীদের প্রশ্ন, কয়েক লাখ গাছ কেটে প্রাকৃতিক বনভূমি ধ্বংসের ক্ষতি নতুন বনায়নের মাধ্যমে কতটা পূরণ করা সম্ভব?

বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ, এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ডেটা সেন্টার নির্মাণের প্রতিযোগিতা যেন প্রকৃতি ধ্বংসের নতুন কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। প্রযুক্তির অগ্রগতি ও অর্থনৈতিক বিনিয়োগের পাশাপাশি পরিবেশগত দায়বদ্ধতা নিশ্চিত না হলে এর দীর্ঘমেয়াদি মূল্য দিতে হতে পারে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যকে।

সর্বশেষ