*ইউনিয়ন পুনর্গঠনের বিরোধে রেল-সড়ক অবরোধ, বিপাকে হাজারো যাত্রী।*
*উপশিরোনাম:* পাঁচ ঘণ্টা ধরে বন্ধ ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটে ট্রেন; ভারতগামী যান চলাচলও স্থবির।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছয়টি গ্রামকে আগের ইউনিয়নে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে রেল ও সড়কপথ অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটে টানা পাঁচ ঘণ্টা ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে ভারতগামী সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের তিতাস সেতু ও কোড্ডা কেবিন এলাকায় এ অবরোধ শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা সড়ক ও রেললাইনে অবস্থান নেওয়ায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ দুটি রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন গন্তব্যের একাধিক ট্রেন আটকা পড়ে।
অবরোধের কারণে পারাবত, পর্যটক এক্সপ্রেস, মহানগর, সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও উপকূল এক্সপ্রেসসহ কয়েকটি ট্রেনের চলাচল ব্যাহত হয়। পাশাপাশি সুলতানপুর-চিনাইর-আখাউড়া-আগরতলা সড়ক বন্ধ থাকায় ভারতগামী যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাধারণ যাত্রীদের অনেককে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, তাঁরা নতুন কোনো ইউনিয়ন চান না। বাসুদেব ইউনিয়নের অখণ্ডতা বজায় রেখে বিচ্ছিন্ন করা ছয়টি গ্রামকে আগের প্রশাসনিক কাঠামোয় ফিরিয়ে নিতে হবে। স্থানীয় মানুষের মতামত উপেক্ষা করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত তাঁরা মেনে নেবেন না। একই সঙ্গে নতুন উপজেলা গঠনের পরিকল্পনাও প্রত্যাখ্যান করেছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন, আলু ব্যাপারী, জামিল ও বাবু সহ আন্দোলনকারীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি চলবে। প্রয়োজনে প্রতিদিন একইভাবে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মে মাসে বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে কোড্ডা, বৈষ্ণবপুর, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, চান্দি ও বরিশল—এই ছয়টি গ্রাম পৃথক করে বরিশল নামে নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। ইউনিয়নটিকে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করে গত ৪ জুন গেজেট প্রকাশ করা হয়। শুরু থেকেই এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছেন সংশ্লিষ্ট গ্রামের বাসিন্দারা।
এর মধ্যে সম্প্রতি বাসুদেব, সুলতানপুর ও রামরাইল ইউনিয়নের অংশবিশেষ নিয়ে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করে বরিশল নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব সামনে আসায় বিরোধ আরও জোরালো হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁদের মতামত ছাড়াই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, অবরোধস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।
মতামত দিন