• ২০২৬ জানুয়ারী ১২, সোমবার, ১৪৩২ পৌষ ২৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:০১ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

মিয়ানমার থেকে ছোঁড়া গুলিতে কক্সবাজার টেকনাফে শিশু আহত, প্রতিবাদে স্থানীয়দের রাস্তা অবরোধ

  • প্রকাশিত ০৬:০১ পূর্বাহ্ন সোমবার, জানুয়ারী ১২, ২০২৬
মিয়ানমার থেকে ছোঁড়া গুলিতে কক্সবাজার টেকনাফে শিশু আহত, প্রতিবাদে স্থানীয়দের রাস্তা অবরোধ
File
মতিউল ইসলাম (মতি)

মিয়ানমার থেকে ছোঁড়া গুলিতে কক্সবাজার টেকনাফে শিশু আহত, প্রতিবাদে স্থানীয়দের রাস্তা অবরোধ 


 মতিউল ইসলাম (কক্সবাজার)


মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘর্ষের সময় ছোঁড়া গুলিতে কক্সবাজারের টেকনাফে এক বাংলাদেশি শিশু নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছে। 


রোববার (১১- জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু আফনান (১০) একই এলাকার জসিম উদ্দিনের মেয়ে। তবে ঘটনায় আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।


স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানা যায়, রোববার সকালে টেকনাফে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার অভ্যন্তরে তীব্র সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে অন্তত এক ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি হয়।


সুত্রে আরো জানা যায়, ভোরের দিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ব্যাপক গোলাগুলির একপর্যায়ে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা সীমান্তের শূন্যরেখার দিকে পিছু হটে অবস্থান নেয়। এতে সকাল ৯টার দিকে আবারও উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এ সময় মিয়ানমারের দিক থেকে ছোঁড়া গুলি সীমান্তের বাংলাদেশি এক বসত ঘরে আঘাত হানে। এতে বাংলাদেশি এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।' নিহত শিশুর লাশ দুপুর ১ টা পর্যন্ত বাড়িতে রয়েছে বলে জানা যায়।


হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খোকন চন্দ্র রুদ্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, এ ঘটনার খবর শুনে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও এপিবিএন সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কিন্তু উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ঘটনাস্থলে যেতে বাধা দেওয়ায় সেখানে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।


এই ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সকাল থেকেই টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকারীরা সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, নিহত শিশুর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং সীমান্তে মর্টারশেল পড়া বন্ধে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানান। এদিকে সড়ক অবরোধের কারনে সকাল থেকে যান চলাচল সম্পুর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে করে অফিসমুখী চাকুরে, এনজিও গাড়ি, সাধারণ যাত্রী, পর্যটক ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।


খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে স্থানীয় প্রতিনিধি,  বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালান। তবে একাধিক দফা আলোচনা সত্ত্বেও দুপুর পর্যন্ত সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেনি।


এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছেন, সীমান্ত পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। 


অন্যদিকে সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিনযাপন করছে। এ অবস্থার দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছেন।

সর্বশেষ