সর্বশেষ ২২ বছর আগে কর্মী সম্মেলনে এসেছিলেন বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তখন তিনি ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দলের প্রধান হিসেবে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচার শুরু করতেন।
১৭ বছর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গেল বছরের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশের মাটিতে পা রাখেন তারেক রহমান। সেদিন সিলেট হয়ে ঢাকায় আসলেও দেখা হয়নি সিলেটবাসীর সঙ্গে। সেই হিসেবে ২২টি বছর পর সিলেটে আসছেন তারেক রহমান।
এদিকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিলেট আগমনকে কেন্দ্র করে সিলেট বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এরইমধ্যেই নিয়মিত মাইকিং, প্রস্তুতি সভা, প্রচার শেষ করেছেন। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ।
জেলা বিএনপির নেতারা তারেক রহমানের সফরসূচি সম্পর্কে জানান, দলের চেয়ারম্যান সন্ধ্যায় বিমানযোগে সিলেটে পৌঁছে যাবেন। রাতেই তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর তিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামের শ্বশুরবাড়ি যাবেন বলে শুনা যাচ্ছে।
বেলা ১১টার দিকে তিনি নগরীর চৌহাট্টা এলাকার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এখান থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে তার নির্বাচনি প্রচার শুরু হবে। সিলেটের জনসভা শেষ করে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকায় ফিরবেন।
যাত্রাপথে তিনি মৌলভীবাজারের শেরপুর, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, নরসিংদী এবং নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার বা রূপগঞ্জে নির্বাচনি পথসভা ও সমাবেশে অংশ নেবেন। বিএনপি চেয়ারম্যানের এই সফরে বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ত্যাগী ও শীর্ষ নেতাদের সফরসঙ্গী করা হয়েছে।
এদিকে সিলেটে তারেক রহমানের আগমন ও জনসভাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা নিয়মিত মাইকিং, প্রস্তুতি সভা, প্রচার শেষ করেছেন। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ।
নগরীর রিকাবীবাজার, চৌহাট্টা ও আম্বরখানা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত তোরণ, বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সাজনো হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে রয়েছে জনসভার প্রচারের ব্যানার-ফেস্টুন। নগরজুড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
আলীয়া মাদ্রাসা মাঠের চারপাশ সাজানো হয়েছে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানানোর বিলবোর্ড-ব্যানার-ফেস্টুনে। মাদ্রাসা মাঠে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে।
বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে এবং খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে সব কয়টি নির্বাচনে সিলেটে থেকেই নির্বাচনি প্রচারা শুরু করেছেন। সেই ধারাবাহিকতা তারেক রহমানও বজায় রেখেছেন।
তারেক রহমানের সিলেট সফর উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি। সেখানে দলীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও সিলেট-১ আসনের প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, “সিলেট ও সুনামগঞ্জ থেকে তিন লাখ বা তারও বেশি নেতাকর্মী-সমর্থকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করছে দল। এটি কোনো বিভাগীয় সমাবেশ নয়; তবু সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটের অন্যতম বড় জনসমাবেশ হবে এটি।
মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের দলীয় ইউনিটগুলোকে সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মাঠে নামানো হয়েছে।
প্রায় তিন লাখ মানুষের সমাগমের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সমাবেশ শুরু হবে। বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীরা আগের রাতেই মাঠে অবস্থান নেবেন।
তিনি বলেন, “নির্বাচনি আচরণবিধি মেনেই জনসভার মঞ্চ প্রস্তুত করা হচ্ছে। জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে এবং এটি দেশের রাজনীতিতে একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে বিবেচিত হবে।”
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “জনসভা ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকবে।
মতামত দিন