• ২০২৬ Jun ১৫, সোমবার, ১৪৩৩ আষাঢ় ১
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০৬ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে অভূতপূর্ব সাফল্য এশিয়ার প্রথম ‘আন্তঃলিঙ্গ হাত প্রতিস্থাপন’ হিসেবে এই ঘটনাটি।

  • প্রকাশিত ০৪:০৬ অপরাহ্ন সোমবার, Jun ১৫, ২০২৬
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে অভূতপূর্ব সাফল্য এশিয়ার প্রথম ‘আন্তঃলিঙ্গ হাত প্রতিস্থাপন’ হিসেবে  এই ঘটনাটি।
সংগৃহীত ছবি
অনলাইন ডেস্ক

ভারতের ১৯ বছর বয়সী তরুণী শ্রেয়া সিদ্ধান্ত গৌরা এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তার দুটি হাতই হারিয়েছিল। এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে চিকিৎসকরা এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেন। 

তারা এক মৃত তরুণের (সচিন নামের ২০বছর বয়সী ছাত্র) হাত শ্রেয়ার শরীরে প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নেন। এশিয়ার প্রথম ‘আন্তঃলিঙ্গ হাত প্রতিস্থাপন’ হিসেবে 

এই ঘটনাটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি মাইলফলক 

হয়ে উঠেছে।

কেরালার অমৃতা ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্স এর ২০ জন সার্জন এবং ১৬ সদস্যের অ্যানেশথ্যাসিয়া টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় টানা ১৩ ঘণ্টা ব্যাপি এই জটিল অস্ত্রপচার সম্পন্ন হয়। 

প্রথমদিকে প্রতিস্থাপিত হাত দুটি দাতার শরীরের রঙের কারণে কিছুটা গাঢ় এবং আকারে পুরুষোচিত ও মোটা ছিল।

অস্ত্রপচারের কয়েক মাস পর থেকেই হাত দুটিতে অদ্ভুত সব পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। চিকিৎসকদের বিস্মিত করে দিয়ে সেই পুরুষোচিত হাতগুলো ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে নারীর হাতের মত সরু ও কোমল হতে শুরু করে। সবচেয়ে বড় চমক ছিল ত্বকের রঙের পরিবর্তন; হাতের গাঢ় রঙ ধীরে ধীরে বদলে গিয়ে শ্রেয়ার নিজের শরীরের ত্বকের রঙের সাথে মিলে যায়।

চিকিৎসকদের ধারণা, শরীরের মেলামিন উৎপাদনকারী কোষগুলো হয়তো ধীরে ধীরে দাতার কোষগুলোকে প্রতিস্থাপন করেছে, যার ফলে ত্বকের রঙে এই সামঞ্জস্য এসেছে। এছাড়া হাতের পেশি ও গঠনের এই পরিবর্তন চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন রহস্যের জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে গবেষকরা বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক গবেষণা চালাচ্ছেন।

​শ্রেয়ার এই সফল অস্ত্রপচার এবং পরবর্তী শারীরিক পরিবর্তন চিকিৎসাবিজ্ঞানের অসীম সম্ভাবনাকে আবারও প্রমাণ করল। এটি কেবল অঙ্গ প্রতিস্থাপন নয়, বরং মানবদেহের সাথে অন্য একটি অঙ্গের খাপ খাইয়ে নেওয়ার এক অনন্য উদাহরণ। শ্রেয়া এখন ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে ধীরে ধীরে তার হাতের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাচ্ছেন এবং স্বাভাবিক জীবনে 

ফেরার স্বপ্ন দেখছেন।

পুরুষের হাত প্রতিস্থাপনের পর নারীর দেহে তা নিজ থেকেই বদলে যাওয়া—প্রকৃতি ও বিজ্ঞানের এক অনন্য মেলবন্ধন।

- সংগৃহীতঃ সৌজন্যে রাখী চক্রবর্তী।

সর্বশেষ