তামাবিলের ডিএনএম এন্টারপ্রাইজের
পক্ষ থেকে ২টি পরিবারকে ঘর উপহার
গোয়াইনঘাট,জৈন্তাপুর সিলেট, প্রতিনিধি ঃ মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম বাসগৃহ। অথচ এখনো আমাদের সমাজের অনেক মানুষজন রয়েছে জরাজীর্ণ ঘর নিয়ে, আবার কেউবা আছে সম্পূর্ণ বাস্তহাারা অবস্থায়। এমনই এক অসহায় বয়োবৃদ্ধা মহিলার নাম নেহারী বিবি (৭০)। সিলেটের তামাবিল নলজুরী দক্ষিণ পাড়ায় যার বসবাস। স্বামী মোহাম্মদ আলী অনেক দিন হলো মারা গেছেন। ৪মেয়ে বিয়ে হয়ে গেছে, নেই কোন ছেলে। জানা গেছে মেয়েরা স্বামীর ঘরে থাকলেও তারা কখনো মায়ের খোঁজ খবর নেয় না। এই অবস্থায় একটি কূড়ে ঘরই নেহারী বিবি আবাস্থল। এলাকার মানুষের কাছে হাত পেতে যেটুকু পান তা দিয়েই চলে অসহায় এই বৃদ্ধার আহারী। নেহারী বিবির এই করুন অবস্থা দেখে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসলেন তামাবিলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মেসার্স ডিএনএম এন্টারপ্রাইজের পরিচালক মনিরুজ্জামান মনির। সম্প্রতি মনিরুজ্জামান মনির নেহারী বিবির ঘরটি নতুন করে নির্মান করার কাজ শুরু করেন। ঘরের প্রায় কাজ প্রায় শেষ পর্যায়, তবে আংশিক কিছু কাজ এখনো বাকি আছ। নতুন ঘর পাওয়ার বিষয়ে অনুভূতি জানতে চাইলে নেহারী বিবি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন আমার বলার কিছই নেই, শুধু মনির বাবাজির জন্য আমি প্রাণ ভরে দোয়া করবো। আমার ত কোন ছেলে নেই, মনে করবো আল্লাহর পক্ষ থেকে এই মানুষটাকে দিয়ে আমার ছেলের জায়গাটা পূরন করা হয়েছে।
নতুন ঘর পাওয়া অপর পরিবার নলজুরী স্কুল টিলার বাসিন্দা মোঃ রনি ও তার স্ত্রী রিনা আক্তার। রনি পেশায় শ্রমিক হলেও কাজের সুযোগ না থাকা আর শারীরিক অক্ষমতার কারনে ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খেয়ে বাচার জন্য যখন কঠিন অবস্থা বিরাজ করছে, ঠিক একইভাবে ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করাও তাদের জন্য সীমাহীন দুঃখের বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। এই অবস্থায় মেসার্স ডিএনএম এন্টারপ্রাইজের পরিচালক মনিরুজ্জামান মনির তাদের জন্যও সম্পূর্ণরূপে একটি টিনসেডের ঘর নির্মান করে দেন। অসহায় এই পরিবার বসবাসের উপযোগী একটি নতুন ঘর পেয়ে আনন্দে আত্মারা। শ্রমিক মোঃ রনি বলেছেন আমাদের সমাজে মনির ভাইয়ের মত কয়েকজন পরোপকারী লোক থাকলে মনে হয় এই সমাজ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। একই সাথে তিনি মনিরুজ্জামান মনিরের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। ঘর ২টির কাজ শেষ হওয়ায় ২৩ মে শনিবার সকাল ১১টায় উপকারভোগী পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন মেসার্স ডিএনএম এন্টারপ্রাইজের পরিচালক মনিরুজ্জামান মনির। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম সরওয়ার বেলাল, সহ-সভাপতি আব্দুল হালিম, স্থানীয় মুরব্বি খলিলুর রহমান, ইসমাইল হোসেন ও ইউনুস মিয়া প্রমুখ। এদিকে মেসার্স ডিএনএম এন্টারপ্রাইজের পরিচালক মনিরুজ্জামান মনিরের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন এলাকার উন্নয়ন বা কোন ব্যাক্তিকে সহযোগিতা করতে হলে জনপ্রতিনিধি হওয়া লাগে না। আর্থিক স্বচ্ছলতা থাকলে অসহায় মানুষকে সহায়তা করা উচিত। আমিও আমার সামর্থ অনুযায়ী প্রতিবেশীকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি, কবুল করার মালিক আল্লাহ।
মতামত দিন