শিক্ষাই বদলে দিচ্ছে বিরলের কড়া জনগোষ্ঠীর জীবন, জাহাঙ্গীরনগরে পড়ছেন এক তরুণ।।
এক সময় ভাষাগত প্রতিবন্ধকতার কারণে বিদ্যালয়ে টিকেই থাকতে পারত না দিনাজপুরের বিরল উপজেলার বিলুপ্তপ্রায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কড়া সম্প্রদায়ের শিশুরা।
প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোনোই ছিল তাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সময়ের সঙ্গে সেই বাস্তবতা বদলাতে শুরু করেছে। শিক্ষার আলোয় জেগে উঠছে এই জনগোষ্ঠীর নতুন স্বপ্ন।
বিরল উপজেলার হালজায় ঝিনাইকুড়ি গ্রামের তরুণ লাপল কড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে ভর্তি হয়ে নিজের সম্প্রদায়ের জন্য নতুন ইতিহাস গড়েছেন।
তার এই সাফল্য কড়া জনগোষ্ঠীর শিশু-কিশোরদের মধ্যে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছে।
লাপল কড়ার এই অনুপ্রেরণাকে সামনে রেখে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা ভাবনা-এর সহযোগিতায় গ্রামে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘কড়া পাঠশালা’। এখানে শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সহজ পদ্ধতিতে পাঠদান করা হয়। ফলে ভাষাগত জটিলতা কাটিয়ে তারা আগ্রহের সঙ্গে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছে।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পাঠশালার শিক্ষকরা আদিবাসী সম্প্রদায়ের হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ভাষায় পাঠ বুঝিয়ে দিতে পারেন। এতে শিশুদের শেখার আগ্রহ বেড়েছে, পাশাপাশি বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার প্রবণতাও কমেছে। অভিভাবকদের মধ্যেও শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে ঝিনাইকুড়ি গ্রামে কড়া সম্প্রদায়ের ২৪টি পরিবার বসবাস করছে। পাঠশালায় ১৯ জন শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অতিরিক্ত পাঠদান ও কোচিং সুবিধা পাচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, শিক্ষাই পারে একটি জনগোষ্ঠীর ভাগ্য বদলে দিতে। সেই পরিবর্তনের পথেই এগিয়ে যাচ্ছে বিরলের কড়া সম্প্রদায়। ক্ষুদ্র এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে শুধু শিক্ষার প্রসারই নয়, বরং তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মতামত দিন