• ২০২৬ Jul ৩১, শুক্রবার, ১৪৩৩ শ্রাবণ ১৫
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

কাঁঠালের বীজে নতুন সম্ভাবনা: পুষ্টিসমৃদ্ধ মিনারেল কনসেন্ট্রেট তৈরির প্রযুক্তিতে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেটেন্ট

  • প্রকাশিত ১২:০৭ পূর্বাহ্ন শুক্রবার, Jul ৩১, ২০২৬
কাঁঠালের বীজে নতুন সম্ভাবনা: পুষ্টিসমৃদ্ধ মিনারেল কনসেন্ট্রেট তৈরির প্রযুক্তিতে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেটেন্ট
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ

কাঁঠালের বীজে নতুন সম্ভাবনা: পুষ্টিসমৃদ্ধ মিনারেল কনসেন্ট্রেট তৈরির প্রযুক্তিতে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেটেন্ট


এতদিন কাঁঠালের বীজকে মূলত গৃহস্থালি বা খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে অবশিষ্ট উপাদান হিসেবে দেখা হলেও, এবার সেই বীজ থেকেই তৈরি হচ্ছে উচ্চমাত্রার খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান বা মিনারেল কনসেন্ট্রেট। এ উদ্ভাবনী প্রযুক্তি তৈরি করেছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) গবেষকরা, যা বাংলাদেশ সরকারের পেটেন্ট অর্জন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ শাখা জানায়, খাদ্য প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক এবং তাঁর স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মো. আকরাম হোসেনের যৌথ গবেষণার ফল হিসেবে প্রযুক্তিটি উদ্ভাবিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রায় তিন বছর গবেষণা চালানোর পর ২০২৫ সালের নভেম্বরে এ সাফল্য আসে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নামে যাত্রা শুরুর পর এটিই প্রতিষ্ঠানটির প্রথম পেটেন্টপ্রাপ্ত উদ্ভাবন। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট উদ্ভাবিত প্রযুক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১টিতে।

গবেষণায় দেখা যায়, সাধারণভাবে শুকনো কাঁঠালের বীজে প্রায় ২ শতাংশ খনিজ উপাদান থাকে। তবে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই খনিজ উপাদান ঘনীভূত করে ৩৩ শতাংশের বেশি মিনারেল কনসেন্ট্রেট উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। এতে খনিজের ঘনত্ব প্রায় ১৬ থেকে ১৭ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

গবেষণাটির অর্থায়ন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গ্র্যান্টস ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন (জিএআরই) প্রকল্প। পরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) প্রযুক্তিটির পেটেন্ট প্রদান করে। এটি পি/বিডি/২০২৪/০০০০৪০ নম্বরে নিবন্ধিত হয়েছে।

গবেষকদের মতে, এই মিনারেল কনসেন্ট্রেট বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে ব্যবহার করে আরও পুষ্টিকর খাদ্যপণ্য তৈরি করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি কৃষিজ বর্জ্যের কার্যকর ব্যবহার, খাদ্য অপচয় হ্রাস, পরিবেশ সংরক্ষণ, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের সম্প্রসারণে প্রযুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই পেটেন্ট শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন নয়; এটি দেশের কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টি গবেষণার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। কৃষিজ বর্জ্যকে মূল্যবান পুষ্টিসমৃদ্ধ সম্পদে রূপান্তরের বাস্তব উদাহরণ তৈরি করেছে এ গবেষণা।

প্রযুক্তির অন্যতম উদ্ভাবক অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক বলেন, প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা গেলে দেশে নতুন ধরনের পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যপণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি কাঁঠালভিত্তিক শিল্পের প্রসার, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং কৃষিজ সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এ পর্যন্ত ৯৭টি উন্নত ফসলের জাত উদ্ভাবন করেছে।

সর্বশেষ