মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে নতুন ঝড়
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার প্রভাব বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে নতুন করে ঊর্ধ্বগতি সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে একদিনের ব্যবধানে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বুধবারের লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬ ডলার বেড়ে ৯০ দশমিক ৭৪ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ৬ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ৪৬ ডলারে দাঁড়ায়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক অভিযান, ড্রোন হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক তেলের দাম একদিনেই প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার ঘটনার পর ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথ সামরিক অভিযান চালায়। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার দাবি এবং লোহিত সাগরে একটি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার খবর পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। পাশাপাশি মিশরের ভূমধ্যসাগরীয় গ্যাস লোডিং টার্মিনালে বিস্ফোরণের ঘটনাও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালিতে সীমিত জাহাজ চলাচল আন্তর্জাতিক তেলবাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (EIA) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ৭২ লাখ ব্যারেল কমে ৪০ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা ২০১৮ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের তুলনায় এই পতন অনেক বেশি হওয়ায় বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও জোরালো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, লোহিত সাগরে নিরাপত্তা ঝুঁকি, হুতি বিদ্রোহীদের তৎপরতা এবং ওপেক প্লাসের উৎপাদন নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতেও আন্তর্জাতিক তেলের বাজার অস্থির থাকবে। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।
মতামত দিন