পরিবেশ রক্ষায় দিনাজপুরে বৃক্ষমেলার সফল সমাপ্তি, সন্তুষ্ট উদ্যোক্তারা।
দিনাজপুরে পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন সম্প্রসারণ এবং বৃক্ষরোপণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত পক্ষকালব্যাপী গ্রামীণ বৃক্ষমেলা সফলভাবে শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড়মাঠ প্রাঙ্গণে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা নার্সারি মালিক, উদ্যোক্তা, কৃষক ও প্রকৃতিপ্রেমীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। মেলার প্রতিটি স্টলে দেশি-বিদেশি ফলদ, বনজ, ঔষধি এবং শোভাবর্ধনকারী গাছের সমৃদ্ধ সংগ্রহ দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
মেলায় আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, পেয়ারা, কমলা, জাম্বুরা, কালোজাম, লটকন, নারিকেলসহ বিভিন্ন দেশীয় ফলদ গাছের পাশাপাশি রাম্বুটান, এভোকাডো, ডুরিয়ান, লংগান, সাদা জাম ও ডালিমের মতো বিদেশি ফলের চারাও বিক্রির জন্য রাখা হয়। এছাড়া মেহগনি, গামারি, সেগুন, আকাশমনি, শিশু, অর্জুন, হরতকি, বহেরা, আমলকিসহ বিভিন্ন বনজ ও ঔষধি গাছ এবং ক্যাকটাস, অর্কিড, গোলাপ, জুঁই, রজনীগন্ধা, পাতাবাহারসহ প্রায় সাত শতাধিক প্রজাতির শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা প্রদর্শিত হয়।
এবারের মেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) নার্সারিসহ মোট ৩০টি স্টল অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, মেলাজুড়ে ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহ থাকায় আশানুরূপ বেচাকেনা হয়েছে। মেটাল বায়োটেক নার্সারির ব্যবস্থাপক জানান, তাঁদের স্টলে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের শত শত চারা বিক্রি হয়েছে। অপরদিকে বেস্ট কেয়ার এগ্রো নার্সারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, তাঁদের সংগ্রহে থাকা প্রায় তিন হাজার ২০০ প্রজাতির চারার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চারা মেলাতেই বিক্রি হয়েছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে মেলায় অংশগ্রহণকারী নার্সারিগুলোর মধ্যে সেরা পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এ ধরনের বৃক্ষমেলার আয়োজন ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত রাখা হবে।
মতামত দিন