আমদানিকারক লবণ সিন্ডিকেটের দিন শেষ!
কক্সবাজারে আধুনিক রিফাইনারি হাবে বদলে যাচ্ছে দেশের লবণ অর্থনীতি!
দীর্ঘ ২৮ বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে দেশের লবণ খাতে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে। গত বছর দেশের চাষিরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে গত ৬৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড ২৪.৩৭ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন করেছেন, যা প্রমাণ করে ভোজ্য লবণে আমাদের কোনো অভাব নেই। তবে ওষুধ, টেক্সটাইল ও চামড়া শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট বা শিল্প লবণ দেশে আধুনিক রিফাইনারি না থাকায় এতদিন ভারত ও অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করতে হতো। আর এই সুযোগে একটি অসাধু বন্ডেড ওয়্যারহাউস সিন্ডিকেট শুল্কমুক্ত সুবিধায় শিল্প লবণের নামে ভোজ্য লবণ এনে খোলা বাজারে বিক্রি করে হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে, যার ফলে দেশি চাষিরাও লবণের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
অবশেষে কৃষকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে বিসিক (BSCIC) কক্সবাজারের চৌফলদন্ডীতে ১৫৪ থেকে ১৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি করতে যাচ্ছে একটি আধুনিক লবণ রিফাইনারি হাব ও গবেষণা ইনস্টিটিউট। এই মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি ধ্বংস হবে এবং চাষিরা কোনো দালাল বা ফড়িয়া ছাড়াই সরাসরি এই হাবে লবণ বিক্রি করে মণে অন্তত ৩৩৭ টাকা পর্যন্ত ন্যায্যমূল্য পাবেন। দেশেই আন্তর্জাতিক মানের শিল্প লবণ উৎপাদিত হওয়ায় হাজার কোটি টাকার আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং ডলার সাশ্রয়ের পাশাপাশি উদ্বৃত্ত লবণ বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। এছাড়া এই হাবকে কেন্দ্র করে প্রায় ১০ হাজার মানুষ আধুনিক পলিথিন প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ পাবে এবং সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ৩০ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই বিসিক-নেতৃত্বাধীন প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ খুব শীঘ্রই লবণ খাতে সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে চলেছে।
মতামত দিন