• ২০২৬ অগাস্ট ১২, বুধবার, ১৪৩৩ শ্রাবণ ২৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০৮ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

সিলেটের রায়নগরে ট্রিপল মার্ডার: বৃদ্ধ দম্পতিসহ গৃহকর্মী হত্যায় সামনে তিন সম্ভাব্য কারণ

  • প্রকাশিত ০৯:০৮ অপরাহ্ন বুধবার, অগাস্ট ১২, ২০২৬
সিলেটের রায়নগরে ট্রিপল মার্ডার: বৃদ্ধ দম্পতিসহ গৃহকর্মী হত্যায় সামনে তিন সম্ভাব্য কারণ
Time Bangla news
নাহিদ

সিলেটের রায়নগরে ট্রিপল মার্ডার: বৃদ্ধ দম্পতিসহ গৃহকর্মী হত্যায় সামনে তিন সম্ভাব্য কারণ

 

সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসায় বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে ঘটে যাওয়া তিন হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতরা হলেন ব্যবসায়ী ও সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক আব্দুস সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহকর্মী তাহমিনা (২০)।

পরিবারের চার সন্তানই যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে থাকায় বৃদ্ধ দম্পতি বাসায় গৃহকর্মীকে নিয়ে থাকতেন। বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বাসার দরজা বন্ধ এবং দরজার নিচ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখে প্রতিবেশীরা ৯৯৯-এ খবর দেন। পরে পুলিশ দরজা খুলে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানিয়েছেন, তিনজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনাস্থলে হত্যার অস্ত্র পাওয়া যায়নি।

তদন্তে তিনটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে:

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে চুরি-ডাকাতি, পারিবারিক বিরোধ এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাসার ওয়ারড্রপ ও আলমারি খোলা এবং স্বর্ণসহ মূল্যবান জিনিস খোয়া যাওয়ার তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি মদনমোহন কলেজের সামনে পরিবারের একটি সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কথাও স্থানীয় সূত্রে উঠে এসেছে।

নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, আব্দুস সাত্তারের কোনো গুরুতর শত্রুতা ছিল বলে তারা জানেন না। ফলে প্রায় ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ ও তাঁর স্ত্রীকে বাসার ভেতরে কেন হত্যা করা হলো—এ প্রশ্নের উত্তরই এখন তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

ঘটনার সময় নিয়ে স্বজন ও ভাড়াটিয়ার বক্তব্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্বজনের দাবি, সকাল ৯টার দিকেও তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে; অন্যদিকে একজন ভাড়াটিয়া সকালে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। তাছাড়া এক নিকটাত্মীয় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিকভাবে রাজনৈতিক ইস্যু টেনে আনেন। তিনি বলেন বিএনপি সরকার আসায় খুনের ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ, CID ও PBI-এর ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করেছে। পুলিশ একটি দলিলও উদ্ধার করেছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে একটি বিশেষ তদন্ত দলও গঠন করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।

ডাকাতি, পারিবারিক বিরোধ নাকি সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ—কোন কারণের সূত্র ধরে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড? উত্তর মিলবে পুলিশের পূর্ণাঙ্গ তদন্তে। তার আগপর্যন্ত আমাদের ধৈর্য ধরতেই হবে, তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো একটি কারণকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া সমীচীন নয় কিংবা উল্টোপাল্টা মন্তব্য করে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত করা উচিৎ নয়।

সর্বশেষ