• ২০২৬ অগাস্ট ২৩, রবিবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:০৮ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার, ঘটনা টি ঘটে দামতি দেবিদ্বার কুমিল্লা

  • প্রকাশিত ০৪:০৮ অপরাহ্ন রবিবার, অগাস্ট ২৩, ২০২৬
পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার, ঘটনা টি ঘটে  দামতি দেবিদ্বার কুমিল্লা
পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার, ঘটনা টি ঘটে দামতি দেবিদ্বার কুমিল্লা
শাকিল মাহমুদঃ জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা

কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি পরিত্যক্ত বাড়ির ঘর থেকে ইউছুফ আলী (৩২) নামে এক যুবকের ফাঁস দেওয়া অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ধামতী গ্রামের পশ্চিমপাড়ার আবু তাহেরের পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত ইউছুফ আলী কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার রামমোহন ইউনিয়নের কাপালনগর গ্রামের আয়েত আলীর ছেলে। স্থানীয়রা জানান, ইউছুফ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অটোরিকশা চালাতেন। প্রায় ৭-৮ মাস তিনি মাছের ব্যবসাও করেছেন। তবে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় তার পারিবারিক জীবনে নানা বিরোধ দেখা দেয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ১৫ দিন আগে মাদক সেবন করে স্ত্রীকে মারধর করলে স্ত্রী দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকে ইউছুফের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।

শনিবার বিকেলে ওই পরিত্যক্ত বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্গন্ধ পান দুই পথচারী। পরে টিনের বেড়ার ফাঁক দিয়ে ঘরের ভেতরে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ইউছুফকে ঝুলতে দেখে তারা স্থানীয়দের খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

১০ নম্বর গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের সদস্য বিউটি আক্তার জানান, নিহতের স্ত্রী পান্না আক্তার ২০২০ সাল থেকে কুমিল্লা ইপিজেডে চাকরি করতেন। ইউছুফ তাকে পছন্দ করে প্রায় এক বছর ধরে বিয়ের জন্য বিরক্ত করতেন। পরে ২০২১ সালে তাদের বিয়ে হয়। তাদের দুই ছেলে—ইউনুছ (৫) ও কাউছার (২)। বর্তমানে পান্না চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

পরিত্যক্ত বাড়ির মালিক আবু তাহের জানান, তিনি দেবিদ্বার সদরে ‘লিপি ২২ ক্যারেট জুয়েলারি’তে ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করেন এবং পরিবার নিয়ে সেখানেই ভাড়া থাকেন। বাড়িটি পরিত্যক্ত থাকায় পাশের বাড়ির মৃত কুদ্দুস মিয়ার স্ত্রীর অনুরোধে ইউছুফকে সেখানে একটি ঘরে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বাড়িটি দেখভালের দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়।

নিহতের স্ত্রী পান্না আক্তার বলেন, তার স্বামী মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদক সেবন করে তিনি প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। স্বামীর নেশার পেছনে সংসারের আয়-রোজগার শেষ হয়ে যাওয়ায় তাকে দুই সন্তান নিয়ে দূর এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তি করেও সংসার চালাতে হয়েছে। স্বামীর ব্যবসার জন্য নিজের চাকরির উপার্জন এবং পরিবারের কাছ থেকে টাকা এনে দিলেও সেসব অর্থ মাদকের পেছনে ব্যয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পান্না জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর তার মোবাইল ফোনও ভেঙে ফেলায় স্বামীর সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি জানতে পারেন, তার স্বামী কয়েক দিন আগে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ইউছুফ নেশাগ্রস্ত ছিলেন এবং মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ ছিল। তবে কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন, তদন্তের আগে তা বলা যাচ্ছে না। অর্ধগলিত মরদেহ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তিন-চার দিন আগে নির্জন ওই বাড়ির ঘরের তীরের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সর্বশেষ