• ২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৬, রবিবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ২২
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:০৯ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

দাম বাড়তেই ফিরল বোতলের সয়াবিন*

  • প্রকাশিত ০৭:০৯ অপরাহ্ন রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
দাম বাড়তেই ফিরল বোতলের সয়াবিন*
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ

*দাম বাড়তেই ফিরল বোতলের সয়াবিন* 

সংকট কাটলেও স্বস্তি নেই বাজারে | বাড়ছে আটা-ময়দা, চড়া ডিম-মুরগি


দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাজারে ফিরেছে এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল। কয়েক সপ্তাহ ধরে পাড়া-মহল্লার দোকানে ছোট বোতলের তেল না পাওয়া গেলেও নতুন দর কার্যকর হওয়ার পর এখন অধিকাংশ খুচরা দোকানেই মিলছে তা। তবে সরবরাহ ফিরলেও ভোক্তার স্বস্তি ফেরেনি—বরং বাড়তি দামের বোঝা চেপেছে সংসারের খরচে।

সরকার এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা থেকে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করেছে। আর এর পরই ছোট বোতলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার চিত্র দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, নতুন চালান আগের তুলনায় বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

শুধু সয়াবিনেই নয়, নিত্যপণ্যের বাজারে একসঙ্গে বাড়ছে একাধিক পণ্যের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে আটা-ময়দার দাম আবারও বেড়েছে। চিনি ও ডিমের দামও রয়েছে বাড়তি। ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির বাজারেও কমেনি দাম।

 *সংকটের পর সরবরাহ, কিন্তু বাড়তি দামে* 

সাভার-হেমায়েতপুর এলাকার একটি মুদি দোকান থেকে শুক্রবার এক লিটার সয়াবিন তেল কেনেন গৃহবধূ মিলি আক্তার। পাঁচ সদস্যের পরিবারের রান্নার জন্য কয়েক দিন পরপরই তেল কিনতে হয় তাঁর। তাঁর ভাষ্য, গত সপ্তাহে স্থানীয় দোকানে বোতলের তেল না পেয়ে দূরের বড় বাজার থেকে কিনতে হয়েছিল। এবার একই দোকানে তেল পাওয়া গেলেও দাম দিতে হয়েছে ২০৪ টাকা।

দোকানি আলামিন জানান, প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন ডিলারদের কাছ থেকে এক লিটারের বোতলজাত তেল পাওয়া যায়নি। পাঁচ লিটারের বোতল তুলনামূলক সহজে পাওয়া গেলেও ছোট বোতলের সরবরাহ ছিল কম। গত দুই দিন ধরে ছোট বোতলের সরবরাহ আবার শুরু হয়েছে। তবে নতুন তেল বেশি দামে কিনতে হয়েছে।

সাভারের বিভিন্ন গলির মুদি দোকানেও এখন এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন পাওয়া যাচ্ছে। নতুন চালানের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ২০৪ টাকা দাম নেওয়া হচ্ছে। তবে পুরোনো মজুতের কিছু তেল ২০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন দোকানিরা।

 *সরকারি দরের ওপরে খোলা তেল* 

বোতলজাত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও খোলা সয়াবিন তেলের বাজারে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। সাভারের বাজারে শুক্রবার প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। পাম তেলের দাম ছিল ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা।

সরকারি নির্ধারিত দাম অনুযায়ী খোলা সয়াবিনের লিটার ১৮০ টাকা এবং পাম তেল ১৬৩ টাকা হওয়ার কথা। অর্থাৎ খুচরা বাজারে উভয় ক্ষেত্রেই নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজারে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে। পরিবহন ও দোকান পরিচালনার ব্যয় যুক্ত হওয়ায় সরকারি নির্ধারিত দামে বিক্রি করলে তাদের লোকসান গুনতে হবে।

 *এক মাস ধরেই ঊর্ধ্বমুখী ময়দা* 

তেলের বাজারের পাশাপাশি নতুন করে চাপ তৈরি করেছে আটা-ময়দা। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, গত এক মাস ধরেই ময়দার দাম বাড়ছে।

বর্তমানে প্যাকেটজাত ময়দা কেজিতে সর্বোচ্চ ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খোলা ময়দার দাম ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। এক সপ্তাহে খোলা আটার দামও বেড়ে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং প্যাকেটজাত আটা ৬০ থেকে ৬৫ টাকা হয়েছে।

টিসিবির সর্বশেষ বাজারদরেও দাম বৃদ্ধির প্রবণতা উঠে এসেছে। এক মাসে খোলা আটার দাম ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং খোলা ময়দার দাম সাড়ে ১২ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে চিনির দাম বেড়েছে ৭ শতাংশ।

 *ডজন ডিমে ৩০ টাকা বেশি* 

ডিমের বাজারেও সাধারণ ক্রেতার জন্য নেই স্বস্তি। এক মাস আগে ফার্মের ডিমের ডজন যেখানে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা ছিল, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা দরে।

ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এসব পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি।


 *সবজিতে সামান্য স্বস্তি* 


সবজির বাজারে অবশ্য সপ্তাহের শেষ দিকে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। ঢেঁড়শ, পটল, কাকরোল, ঝিঙে ও জালি ৬০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, লাউ ও ধুন্দল ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং পেঁপে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

লম্বা বেগুন এখনো ১০০ টাকার ওপরে থাকলেও কিছু বাজারে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম মানভেদে ৮০ থেকে ১২০ টাকা। শসার দাম নেমেছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।

তবে বরবটি, টমেটো, গাজর ও কাকরোলের দাম এখনো তুলনামূলক চড়া।

 *বাজারের সার্বিক চিত্র* 

বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট আপাতত কাটলেও এর বিনিময়ে ক্রেতাকে দিতে হচ্ছে বাড়তি দাম। একই সঙ্গে আটা-ময়দা, চিনি, ডিম ও মুরগির বাজারও রয়েছে ঊর্ধ্বমুখী। ফলে সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়েছে সাধারণ মানুষের সংসার।

সর্বশেষ