দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের ৯১ শিক্ষার্থীর অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা ব্যাংকে জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাস্টাররোলে কর্মরত সহকারী কর্মচারী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর থেকে তিনি কলেজে অনুপস্থিত রয়েছেন।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ফরম পূরণের জন্য ৯১ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোট ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৯ টাকা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে কলেজের পাওনা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪৯ টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি ২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ।
বিষয়টি জানার পর ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. শামীম আকতার গত ১২ আগস্ট ফুলবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে টাকা জমা না দেওয়ার পাশাপাশি বিভাগের কিছু দাপ্তরিক নথি আনোয়ারের কাছে থাকায় সেগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, টাকা জমা দেওয়ার বিষয়ে আনোয়ার মৌখিকভাবে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে হিসাব মেলানোর পর গত ৪ আগস্ট থেকে তিনি কলেজে আসছেন না। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।
এদিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তারা নির্ধারিত টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করেছেন। কিন্তু টাকা জমা না হওয়ার বিষয়টি জানার পর পরীক্ষার প্রবেশপত্র পাওয়া ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। দ্রুত বিষয়টির সমাধান চান তারা।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আহসান হাবীব বলেন, আনোয়ারের স্বজনদের মাধ্যমে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত তিনি কলেজে আসেননি বা টাকা ফেরত দেননি। বিষয়টি সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ফুলবাড়ী থানার ওসি শহিদুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মতামত দিন