• ২০২৬ অক্টোবর ০৬, মঙ্গলবার, ১৪৩৩ আশ্বিন ২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:১০ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

*নতুন এটিসি টাওয়ারে আকাশপথে নজরদারি বাড়ল, বাড়ছে রাজস্ব।**

  • প্রকাশিত ০১:১০ অপরাহ্ন মঙ্গলবার, অক্টোবর ০৬, ২০২৬
*নতুন এটিসি টাওয়ারে আকাশপথে নজরদারি বাড়ল, বাড়ছে রাজস্ব।**
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ।

*নতুন এটিসি টাওয়ারে আকাশপথে নজরদারি বাড়ল, বাড়ছে রাজস্ব।** 


 *উপশিরোনাম:* নতুন এটিসি-রাডারে ৬ মাসে ওভারফ্লাইং থেকে আয় ৪১৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা; ১৬–১৮ মাসেই উঠতে পারে ৯৪২ কোটি টাকার বিনিয়োগ। 

আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজনের সুফল পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ার ও আধুনিক রাডার ব্যবস্থা চালুর পর বিদেশি উড়োজাহাজের ওভারফ্লাইং থেকে রাজস্ব আদায় বেড়েছে। একই সঙ্গে দেশের আকাশসীমায় নজরদারি ও উড়োজাহাজ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও হয়েছে আরও কার্যকর।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন—ছয় মাসে বিদেশি উড়োজাহাজের কাছ থেকে ওভারফ্লাইং চার্জ বাবদ আয় হয়েছে ৪১৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা। আগের সময়ের তুলনায় এই আয় প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ বেড়েছে।

এটিসি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. নুর-ই-আলম জানান, আগে ওভারফ্লাইং থেকে প্রতি মাসে গড়ে ৬০ থেকে ৬১ কোটি টাকা আয় হতো। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৬৯ থেকে ৭১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ আকাশসীমা ব্যবহারের পরিমাণের পাশাপাশি রাজস্ব আদায়েও ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে।

নতুন রাডার ও এটিসি ব্যবস্থার সক্ষমতা আরও বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে এ আয় কয়েক গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এয়ার কমডোর নুর-ই-আলমের মতে, বর্তমানে যে পরিমাণ উড়োজাহাজের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে, ভবিষ্যতে দূরত্ব ও রুট ব্যবস্থাপনার ভিত্তিতে এর তিন থেকে চার গুণ বেশি ট্রাফিক সামলানোর সক্ষমতা তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণও একই অনুপাতে বাড়ার সুযোগ রয়েছে।

নতুন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন ফ্রান্সের থেলাস কোম্পানির তৈরি রাডার প্রযুক্তি। এ রাডার স্থাপনসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৯৪২ কোটি টাকা। বর্তমান রাজস্ব প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ১৬ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে এই বিনিয়োগের অর্থ উঠে আসতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

শুধু রাজস্ব নয়, আকাশসীমার নিরাপত্তা ও নজরদারিতেও নতুন প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন আকাশপথে আগে যে এলাকায় রাডার কাভারেজ সীমিত ছিল, চট্টগ্রামের রাডার ব্যবস্থাকে সমন্বিত করার পর সেই সক্ষমতা অনেক বেড়েছে।

এয়ার কমডোর মো. নুর-ই-আলম বলেন, চট্টগ্রাম রাডার ইন্টিগ্রেশনের ফলে দক্ষিণ দিকে অনেক দূর পর্যন্ত নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে। রাডারের সরাসরি কাভারেজের বাইরে থাকা কিছু এলাকায়ও অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে। ফলে বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক রুটগুলো থেকেও নিয়ম অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এটিসি টাওয়ার, রাডার ও নেভিগেশন প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবস্থায় ঢাকার কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত আকাশপথ পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারকারী উড়োজাহাজ শনাক্তকরণ এবং তাদের কাছ থেকে নির্ধারিত ওভারফ্লাইং চার্জ আদায় আরও সুনির্দিষ্টভাবে করা সম্ভব হচ্ছে।

আকাশপথে আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ চলাচল বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও সম্প্রসারণ করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের আকাশসীমা থেকে রাজস্ব আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সর্বশেষ