• ২০২৬ অক্টোবর ২২, বৃহস্পতিবার, ১৪৩৩ কার্তিক ৭
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১০ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

প্যারিসে লুটপাটে নিঃস্ব বাংলাদেশি হাসান, ধূলিসাৎ দশ বছরের পরিশ্রম।*

  • প্রকাশিত ০১:১০ অপরাহ্ন বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬
প্যারিসে লুটপাটে নিঃস্ব বাংলাদেশি হাসান, ধূলিসাৎ দশ বছরের পরিশ্রম।*
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ।

*প্যারিসে লুটপাটে নিঃস্ব বাংলাদেশি হাসান, ধূলিসাৎ দশ বছরের পরিশ্রম।* 

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় সর্বস্ব হারানোর মুখে পড়েছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী হাসান। দীর্ঘদিনের শ্রম, সঞ্চয় ও পরিকল্পনায় গড়ে তোলা তাঁর প্রযুক্তিপণ্য ও কুরিয়ার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি এখন ভাঙচুরের চিহ্নে ভরা। দোকানের মালামাল লুটের পাশাপাশি হামলাকারীদের হাতে শারীরিকভাবে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় জীবন বাঁচাতে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন তিনি।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম ইউরোনিউজকে হাসান জানান, হামলাকারীরা তাঁকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে এবং মাথায় মদের বোতল ভেঙে মারার হুমকি দেয়। প্রাণের ভয়ে দোকান ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ঘটনার পর টানা তিন দিন ঘুমাতে পারেননি বলেও জানান তিন সন্তানের এই জনক।

হাসানের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু ২০১৬ সালে। এর আগে ২০১০ সালে বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্সে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে আতিথেয়তা খাতে দীর্ঘদিন কাজ করে জমানো অর্থ দিয়ে এক সহযোগীর সঙ্গে মিলে ব্যবসাটি গড়ে তোলেন। প্রায় এক দশকের পরিশ্রমে দাঁড় করানো প্রতিষ্ঠানটি মুহূর্তের মধ্যে লুটপাট ও ভাঙচুরের শিকার হওয়ায় এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে তাঁর জীবিকা।

প্যারিসের রিপাবলিক চত্বরের কাছাকাছি একটি প্রধান সড়কে অবস্থিত দোকানটিতে গত ১৭ অক্টোবরের সহিংসতার সময় হামলা চালানো হয়। হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, ফরাসি কর্তৃপক্ষের পরামর্শ মেনে ওই দিন বিকেলে তিনি দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরে যান। কয়েক ঘণ্টা পর মোবাইল ফোনে নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে গিয়ে দোকানে লুটপাটের দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েন। ফুটেজে প্রায় ৩০ জনকে দোকানের ভেতরে প্রবেশ করতে দেখেন তিনি।

খবর পেয়ে দোকানে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সহিংস পরিস্থিতির কারণে প্রথমে পুলিশ তাঁকে নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করতে দেয়নি। পরে মোবাইলে দোকানের ভেতরের পরিস্থিতি দেখিয়ে অনুরোধ করার পর সেখানে যাওয়ার অনুমতি পান। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি নিজেকে অসহায় অবস্থায় দেখতে পান।

লুটপাটকারীরা দোকান থেকে মোবাইল ফোন, প্রযুক্তিপণ্য ও কুরিয়ারে পাঠানোর জন্য রাখা বিভিন্ন পার্সেল নিয়ে যায়। ভাঙা কাচ, নষ্ট সামগ্রী ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা খালি বাক্সে দোকানের মেঝে ভরে যায়। এমনকি নিচতলার স্টোররুমেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। ইউরোনিউজের প্রকাশিত ভিডিওতেও দোকানে হামলা ও লুটপাটের দৃশ্য উঠে এসেছে।

হাসানের জন্য ক্ষতির বিষয়টি শুধু দোকানের মালামাল হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ব্যবসা বন্ধ থাকলেও দোকানের ভাড়া, বিভিন্ন বিল ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের চাপ রয়েছে। একই সঙ্গে বিমা প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন শেষ না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত দোকান পরিষ্কার বা পুনরায় চালুর কাজও শুরু করতে পারছেন না তিনি।

ওই সহিংসতায় প্যারিসের আরও কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হাসানের দোকানের বিপরীতে অবস্থিত সুপারমার্কেট চেইন ইন্টারমার্শের একটি শাখাও লুটপাটের পর বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে কর্মীরা ভাঙা কাচ সরানো এবং দোকানের তাকগুলোতে নতুন করে পণ্য সাজানোর কাজ করছেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। চুরি হওয়া পার্সেল সরবরাহের দায়িত্বে থাকা এক কুরিয়ার কর্মী বলেন, তাঁরা সততার সঙ্গে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে চান, অথচ অন্যদের কর্মকাণ্ডে তাঁদের কাজ ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তবে বিপর্যয়ের এই সময়ে হাসানের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। নোয়াম নামের এক ব্যক্তি তাঁর সহায়তায় অনলাইনে অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে ইতিমধ্যে হাজার হাজার ইউরো জমা পড়েছে বলে ইউরোনিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

নোয়ামের ভাষ্য, হাসান স্থানীয়দের কাছে পরিচিত মুখ। তিনি নিয়মিত ডেলিভারিসহ বিভিন্ন কাজে তাঁদের সহযোগিতা করেন। সেই সম্পর্কের জায়গা থেকেই তাঁর কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁরা।

দীর্ঘদিনের শ্রমে গড়ে তোলা ব্যবসা হারিয়ে এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হাসান। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানটি আবার চালু করা এবং আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। স্থানীয়দের সহায়তা কিছুটা আশার আলো দেখালেও, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে তাঁকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।

সূত্র: ইউরোনিউজ ।

সর্বশেষ