*সাজেকে অবরোধের ষষ্ঠ দিন, এক দাবিতে আটকে সমঝোতা।*
*উপশিরোনাম:* পাঁচ দাবির চারটিতে সম্মতি, দুর্ভোগে পর্যটক ও স্থানীয়রা।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে পাঁচ দফা দাবিতে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো সড়ক অবরোধ চলছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠকে চারটি দাবি নিয়ে সম্মতি হলেও একটি বিষয়ে সমঝোতা না হওয়ায় অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
মঙ্গলবার সকালে মাচালংয়ের ১৪ কিলো, ২ নম্বর কালভার্ট, গঙ্গারামের লাদু মনি বাজার, বাঘাইহাটের হাজাছড়াসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন তাঁরা। এতে দীঘিনালা-সাজেক সড়কে জরুরি সেবা ছাড়া যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটক ও সাধারণ মানুষ। দুর্গম গ্রামগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর সংকটও দেখা দিয়েছে। তবে কোথাও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া। সোমবার সংকট নিরসনে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে একটি দাবি নিয়ে মতৈক্য না হওয়ায় বৈঠকটি অমীমাংসিত থাকে।
কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা জানান, দাবি পূরণ না হওয়ায় অবরোধ চলছে। পরবর্তী বৈঠক এখনো আহ্বান করা হয়নি। তবে আগামী ৫ নভেম্বর একটি দাবি নিয়ে আবারও আলোচনা হতে পারে।
বাবুধন চাকমা ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এক যৌথ বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যরা গঙ্গারাম এলাকায় হামলার পরিকল্পনা করছেন। তাঁদের দাবি, এসব সদস্যকে সরিয়ে নিয়ে স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রায় দুই মাস ধরে এ দাবি জানালেও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জেএসএসের কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার বিভাগের সহসম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তাঁর দাবি, কিছু সংগঠন গ্রামবাসীদের ব্যবহার করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তিনি সাজেকে ইউপিডিএফের কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ তোলেন।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে সংঘাতের খবর নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভ্রাম্যমাণ দল টহল দিচ্ছে।
মতামত দিন