শ্রমিকের অসন্তোষে উত্তাল শিল্পাঞ্চল, জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী।*
তৈরি পোশাকশিল্পে ক্রমবর্ধমান শ্রমিক অসন্তোষ ও বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সংকট নিরসনের করণীয় ঠিক করতে মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী, শ্রম উপদেষ্টাসহ ছয় থেকে সাতজন মন্ত্রী-উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে।
বৈঠকে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া, চলমান অস্থিরতা নিরসন এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোতে দ্রুত উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার কৌশলও নির্ধারণ করা হতে পারে।
এদিকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় পূর্বনির্ধারিত সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর বাতিল করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে রোববার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভে নামেন পোশাকশ্রমিকেরা। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি এলাকায় উত্তেজনা বাড়ে এবং বিক্ষোভ সংঘর্ষ ও ভাঙচুরে রূপ নেয়।
গাজীপুরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের আগুনে একটি পুলিশ বক্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানীর মিরপুরে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
অন্যদিকে আশুলিয়ায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসব ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা ও আশপাশের শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্মূল্যায়নের লক্ষ্যে আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নতুন করে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। তবে বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত থাকায় শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং পরিস্থিতি শান্ত করার বিষয়টি সরকারের জন্য তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মতামত দিন