*১২ হাজার ৫০০ টাকায় চলছে পোশাকশ্রমিকের সংসার, দাবি ৩০ হাজার।*
তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি এখনো ১২ হাজার ৫০০ টাকা। ২০২৩ সালে নির্ধারিত এই মজুরি কাঠামো পরিবর্তনের দাবিতে এবার ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবি তুলেছেন শ্রমিকেরা। এ দাবিতে কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।
ক্রমবর্ধমান শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে নতুন করে মজুরি নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ছয় সদস্যের একটি মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ তথ্য জানান।
শ্রম আইন, ২০০৬-এর সংশোধিত ১৩৯ ধারা অনুযায়ী, নতুন বোর্ড পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি নির্ধারণে সুপারিশ করবে। বোর্ডের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সরকার চূড়ান্ত মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করবে। পরে সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তা কার্যকর করা হবে।
*বর্তমানে কোন গ্রেডে কত মজুরি*
সর্বশেষ ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করা হয়। ওই কাঠামোয় শ্রমিকদের জন্য পাঁচটি গ্রেড নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে প্রথম গ্রেডে মাসিক মোট মজুরি ১৪ হাজার ৭৫০ টাকা, দ্বিতীয় গ্রেডে ১৪ হাজার ১৫০ টাকা, তৃতীয় গ্রেডে ১৩ হাজার ৫৫০ টাকা এবং চতুর্থ গ্রেডে ১৩ হাজার ২৫ টাকা।
পঞ্চম গ্রেডে সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ করা হয় ১২ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ বর্তমানে পোশাকশিল্পের সর্বনিম্ন গ্রেডের একজন শ্রমিকের মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা।
একই মজুরি কাঠামোয় পোশাকশিল্পের কর্মচারীদের জন্যও পৃথক চারটি গ্রেড নির্ধারণ করা হয়। তাঁদের সর্বোচ্চ গ্রেডের মাসিক মোট মজুরি ১৮ হাজার ৮০০ টাকা। আর শিক্ষানবিশ কর্মচারীদের জন্য নির্ধারণ করা হয় ৯ হাজার ৯৫০ টাকা।
*যেভাবে বেড়েছে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি*
দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে প্রথম মজুরি বোর্ড ১৯৯৪ সালে শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি নির্ধারণ করে ৯৩০ টাকা। এরপর ২০০৬ ও ২০১০ সালে কয়েক দফায় মজুরি বাড়ানো হয়।
২০১৩ সালে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৭৬ শতাংশ বাড়িয়ে ৫ হাজার ৩০০ টাকা করা হয়। পাঁচ বছর পর ২০১৮ সালে নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার টাকা। ওই সময় সাতটি গ্রেডে মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল।
সর্বশেষ ২০২৩ সালের মজুরি পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে সাত হাজার টাকার বেশি বাড়িয়ে সর্বনিম্ন মজুরি করা হয় ১২ হাজার ৫০০ টাকা। তখন পাঁচটি গ্রেডে শ্রমিকদের বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়।
তবে তিন বছর না পেরোতেই জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও বর্তমান মজুরি দিয়ে সংসার চালানোর সংকটের কথা তুলে ধরে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানাচ্ছেন শ্রমিকেরা।
নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের সেই দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলো। এখন বোর্ডের সুপারিশ এবং সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে দেশের লাখ লাখ পোশাকশ্রমিকের পরবর্তী মজুরি কাঠামো।
মতামত দিন