• ২০২৬ নভেম্বর ০২, সোমবার, ১৪৩৩ কার্তিক ১৭
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১১ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

বাবাকে হারিয়ে থেমেছিল পড়াশোনা, ৩৪ বছর পর স্বপ্নপূরণ।*

  • প্রকাশিত ০১:১১ পূর্বাহ্ন সোমবার, নভেম্বর ০২, ২০২৬
বাবাকে হারিয়ে থেমেছিল পড়াশোনা, ৩৪ বছর পর স্বপ্নপূরণ।*
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ।

*বাবাকে হারিয়ে থেমেছিল পড়াশোনা, ৩৪ বছর পর স্বপ্নপূরণ।* 


 *উপশিরোনাম:* ৫২ বছর বয়সে এইচএসসি জয়, স্বপ্নজয়ের ফল জিপিএ ৪.২১। শেফালীর সাফল্যে অনুপ্রেরণার গল্প। 

বয়স ৫২ বছর। জীবনের বড় একটি সময় কেটেছে সংসারের দায়িত্ব সামলে। শৈশবে বাবাকে হারিয়ে থেমে গিয়েছিল পড়াশোনা। কিন্তু মনের ভেতর উচ্চশিক্ষার স্বপ্নটি হারিয়ে যেতে দেননি নীলফামারীর ডিমলার গৃহবধূ শেফালী বেগম। দীর্ঘ ৩৪ বছর বিরতির পর ৪৮ বছর বয়সে আবার হাতে তুলে নেন বই-খাতা। অবশেষে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.২১ পেয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন তিনি।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি (বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন শেফালী। গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে তাঁর এই অর্জনের খবর জানা যায়।

শেফালীর বাড়ি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায়। তিনি ডোমার উপজেলার গোমনাতি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরীক্ষায় তাঁর মূল জিপিএ ৩.৯৬ এবং ঐচ্ছিক বিষয়সহ প্রাপ্ত জিপিএ ৪.২১। তাঁর পরীক্ষার রোল নম্বর ৬৩৯০৪৬ এবং শিক্ষাবর্ষ ২০২৩-২৪।

শৈশব থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন শেফালী। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে মেধাতালিকায় স্থানও পেয়েছিলেন। কিন্তু ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর পারিবারিক প্রতিকূলতায় আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে বই-খাতার পরিবর্তে সংসারের দায়িত্বই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের প্রধান ব্যস্ততা।

তবে বয়স বাড়লেও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ কমেনি। দীর্ঘ বিরতির পর ৪৮ বছর বয়সে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করেন। স্বামী ও সন্তানদের অনুপ্রেরণা এবং নিজের অদম্য প্রচেষ্টায় চার বছরের মাথায় এইচএসসি পরীক্ষায় সফল হন তিনি।

শেফালীর তিন সন্তানের প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে। ছোট ছেলে আব্দুর রাজ শাফি দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়াংসাং বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। মেয়ে মাকছুরা খানম নাসমুন রংপুর সরকারি কলেজে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত। বড় ছেলে আব্দুল রাজ্জাক ডিমলায় ব্যবসা করেন। তাঁর সংসারে রয়েছে স্ত্রী ও সন্তান।

শেফালীর স্বামী মকছেদুল আলম মজনু পেশায় কৃষক। তিনি বলেন, পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শেফালী নিজের অনেক স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় তাঁরা সবাই আনন্দিত।

নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে শেফালী বেগম বলেন, ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে পারিবারিক কারণে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অথচ পড়াশোনার প্রতি তাঁর সব সময়ই আগ্রহ ছিল। পরে স্বামী ও সন্তানদের সহযোগিতায় আবার শিক্ষাজীবনে ফিরতে পেরেছেন। জিপিএ ৪.২১ পেয়ে এইচএসসি পাস করা তাঁর জীবনের অন্যতম বড় অর্জন।

গোমনাতি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ দিলীপ রায় বলেন, দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে শেফালীর মতো সংগ্রামী শিক্ষার্থী খুব কম দেখেছেন। তাঁর এই অর্জন প্রমাণ করে, শেখার জন্য বয়স কোনো বাধা নয়। বরং প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো বয়সেই শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

নীলফামারী জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। শেফালী বেগমের সাফল্য অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাঁর অধ্যবসায় ও আগ্রহ অন্যদেরও নতুন করে পড়াশোনায় উৎসাহিত করবে।

তথ্যসূত্র:

সর্বশেষ