• ২০২৬ নভেম্বর ০২, সোমবার, ১৪৩৩ কার্তিক ১৭
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১১ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

অবরোধের মধ্যেই সাজেকে ফের গোলাগুলি, বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ।*

  • প্রকাশিত ০২:১১ পূর্বাহ্ন সোমবার, নভেম্বর ০২, ২০২৬
অবরোধের মধ্যেই সাজেকে ফের গোলাগুলি, বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ।*
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ।

*অবরোধের মধ্যেই সাজেকে ফের গোলাগুলি, বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ।* 

রাঙামাটির সাজেকে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে লাঙ্গলমারা এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে গুলিবিনিময় হয়েছে। রোববার বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলা এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, সাজেকের গঙ্গারামের জুরজুড়ি ছড়ার পাশের লাঙ্গলমারা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগের দিন শনিবারও মাচলং এলাকার দুর্গম কলাবুনিয়া ও ভাঙ্গামুড়ায় প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে গোলাগুলি হয়। পরপর দুই দিনের এমন ঘটনায় পাহাড়ি জনপদটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

তবে গোলাগুলির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস ও ইউপিডিএফ—দুই সংগঠনই। ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেন, তাঁদের কোনো সশস্ত্র সংগঠন নেই। সাজেকে চলমান আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

একইভাবে জেএসএসের কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার বিভাগের সহসম্পাদক সজীব চাকমা দাবি করেন, তাঁদের দল এ গোলাগুলিতে জড়িত নয় এবং দলের কোনো সশস্ত্র গ্রুপও নেই। তাঁর অভিযোগ, ইউপিডিএফের সশস্ত্র তৎপরতার বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পরিচয় চাকমা জানান, জুরজুড়ি ছড়া ও লাঙ্গলমারা সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা গোলাগুলি হয়েছে। এতে আশপাশের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, লাঙ্গলমারা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা গুলিবিনিময় হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

এদিকে পাঁচ দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শিথিল ছিল। তবে অন্য একটি সংগঠনের অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করেছে।

গত ২২ অক্টোবর থেকে বিভিন্ন দাবিতে দফায় দফায় সড়ক অবরোধ করে আসছে সংগঠন দুটি। শুক্রবার এক বার্তায় তাদের নেতা বাবুধন চাকমা ও নতুনজয় চাকমা রোববারের জন্য কর্মসূচি শিথিলের ঘোষণা দেন। স্থানীয় মানুষের মৌলিক প্রয়োজন এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসবের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সোমবার থেকে পুনরায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরুর ঘোষণা রয়েছে।

এর আগে গত ২৬ অক্টোবর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উজোবাজারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি মেনে নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের সম্মতি পাওয়া গেলেও একটি দাবি নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। ফলে কোনো চূড়ান্ত সমাধান ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।

এরপর থেকে সংকট নিরসনে নতুন কোনো কার্যকর উদ্যোগের খবর পাওয়া যায়নি। অবরোধের প্রভাবের পাশাপাশি নতুন করে গোলাগুলির ঘটনায় সাজেকের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সর্বশেষ