• ২০২৬ নভেম্বর ০৫, বৃহস্পতিবার, ১৪৩৩ কার্তিক ২১
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১১ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

ভারতীয় ভোটার তালিকায় নাম, প্রধান শিক্ষকের নাগরিকত্ব যাচাইয়ে দূতাবাসের সহায়তা নেবে মাউশি।*

  • প্রকাশিত ০১:১১ অপরাহ্ন বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ০৫, ২০২৬
ভারতীয় ভোটার তালিকায় নাম, প্রধান শিক্ষকের নাগরিকত্ব যাচাইয়ে দূতাবাসের সহায়তা নেবে মাউশি।*
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ।

*ভারতীয় ভোটার তালিকায় নাম, প্রধান শিক্ষকের নাগরিকত্ব যাচাইয়ে দূতাবাসের সহায়তা নেবে মাউশি।* 

খুলনার পাইকগাছার খড়িয়া নবারুণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রাথমিক তদন্তে ভারতের ভোটার তালিকায় তার নাম পাওয়ার তথ্য মিলেছে। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করতে এবার বাংলাদেশি দূতাবাসের সহযোগিতা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। অভিযোগ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হলে চাকরি হারাতে পারেন তিনি।

মাউশি সূত্র জানায়, দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে এর আগে দীপক চন্দ্র সরকারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় শোকজের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ জন্য একটি চিঠিও তৈরি করা হয়েছে। এতে সাত কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হবে।

মাউশির উপপরিচালক মো. জাকির হোসেন জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে। অধিকতর যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশি দূতাবাসের মাধ্যমে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী চাকরি থেকে বরখাস্তের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য এবং প্রধান শিক্ষকের ভারতীয় নাগরিকত্বের অভিযোগ জমা পড়ে। পরে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের একাধিক তদন্তে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় দীপক চন্দ্র সরকারের নাম থাকার তথ্য উঠে আসে।

গত ৫ এপ্রিল মাউশি তাকে প্রথম দফায় শোকজ করে। নির্ধারিত সময়ে জবাব দেওয়ার পর ৭ সেপ্টেম্বর অধিদপ্তরে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে নাগরিকত্বের বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় পুনরায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 *নিয়োগ বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ* 

প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে আর্থিক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী ও আয়া নিয়োগে অন্তত ৩০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া পাঁচ লাখ টাকার প্রণোদনা অনুদানের ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা শিক্ষক ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হলেও অবশিষ্ট ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা কেনাকাটা ও ভবন মেরামতে ব্যয়ের হিসাবের যথার্থতা নিয়ে তদন্তে আপত্তি ওঠে। প্রতিবেদনে ৭৪ হাজার ৪৮০ টাকার কাজের মানও সন্তোষজনক নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর উপজেলা রিসোর্স অফিসার মো. ঈমান উদ্দিন প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। পরবর্তী সময়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান আলীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি আরেকটি প্রতিবেদন দেয়। একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাও বিষয়টি তদন্ত করেন।

এ ছাড়া ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী ভারতের ভোটার তালিকায় নাম থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেন। এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীদের বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়। পরে খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা বিষয়টিকে গুরুতর ও স্পর্শকাতর উল্লেখ করে মাউশির মহাপরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।

অন্যদিকে, দীপক চন্দ্র সরকার তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি ভারতের ভোটার নন, বাংলাদেশের নাগরিক। বিদ্যালয়ের অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ কিংবা নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগও সত্য নয়।

সর্বশেষ