• ২০২১ মে ১৬, রবিবার, ১৪২৮ জ্যৈষ্ঠ ২
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:০৫ অপরাহ্ন
English

দুর্নীতির সংবাদ করায় সাংবাদিকের অফিসে তালা, খোলেনি আজও

  • প্রকাশিত ০২:০৫ অপরাহ্ন রবিবার, মে ১৬, ২০২১
দুর্নীতির সংবাদ করায় সাংবাদিকের অফিসে তালা, খোলেনি আজও

মোঃ আব্দুল কাদের, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

০৩.০৫.২০২১

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী  জনাব জাকির হোসেন এর দুর্নীতি নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের অনুসারী কতিপয় সন্ত্রাসী ক্ষিপ্ত হয়ে দৈনিক কালের কন্ঠের রৌমারী উপজেলা সংবাদদাতার ব্যক্তিগত অফিস কাম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা লাগানোর ৬ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত তালা খুলে দেয়া হয়নি। তাঁর চাচাত ভাই মারুফ আহমদ সিক্ত মন্ডল তার ১৫/১৬ জন সহযােগিকে নিয়ে বুধবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে রৌমারী উপজেলা রােডে সাংবাদিকের অফিস কাম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে সস্ত্রাসী কায়দায় তালা লাগিয়ে দিয়েছে বলে অভিযােগ  উঠেছে। এঘটনায় ওইদিন রাতে জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযােগ দায়েরের ছয়দিন অতিবাহিত হলেও  মামলা নেয়নি পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান , তালা লাগানাের বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে রৌমারী থানা পুলিশকে জানানো হলে দুইজন পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন ঠিকই কিন্তু তারা তাৎক্ষনিক কোন  ব্যবস্থা গ্রহণ না করে উল্টো অভিযুক্তদের সঙ্গেই কিছুক্ষন গল্পগুজব করে চলে যান। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই মন্ত্রীর ভাই তার দলবল নিয়ে ঐ সাংবাদিকের দােকানের সামনে মহড়া দেয়া শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ থাকায় কুরিয়ার সার্ভিসের অসংখ্য গ্রাহক হয়রানির মুখে পড়েছেন। এ অবস্থায় কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মচারী রাজু আহমেদ তালাবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের বাইরে দাঁড়িয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের  জরুরী কিছু কার্যক্রম চালানাের চেষ্টা করলে সেখান থেকে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয় এবং  ভয়-ভীতি দেখিয়ে বলা হয় এখানে কালের কন্ঠের সাংবাদিক কুদ্দুস বিশ্বাসকে কােন অফিস করতে দেয়া হবে না। তার কুরিয়ার ব্যবসাও এখান থেকে গুটিয়ে নিতে হবে। তাদের হুমকিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গত ৬দিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

 নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক কুদ্দুস বিশ্বাস অভিযােগ করে বলেন, বর্তমান সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে তাহলে সত্য বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করে আমার অপরাধটা কি? মন্ত্রীর লােকজন বলছে আমি মন্ত্রীর কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইলে, মন্ত্রীকে নিয়ে আর কােন সংবাদ না করার প্রতিশ্রুতি দিলে তারা আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দিবে। এর আগে তারা তালা খুলে দিবে না বলে আমাকে জানিয়েছে।

ওসিকে বিষয়টি জানানাের পর তিনি বলেছেন  একটা লিখিত অভিযােগ দেন। আমি ঘটনার দিন রাতে থানায় অভিযােগ দায়ের করেছি।

ওই সাংবাদিক আরাে জানান, থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযােগ দেয়ার পর থেকে ওসি’র সঙ্গে যােগাযােগ করি। তিনি বলেছেন আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি। তার পর আবারো ওসিকে ফোন দিলে ওসি বলেন মন্ত্রীর লোকদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে  অপক্ষা করুন। এ বিষয়ে  রৌমারীর ইউএনও মহোদয়ের সাথে কথা হলে তিনি বলেন  সংবাদ প্রকাশ নিয়ে এভাবে ঘরে তালা দিতে পারেন না। ঠিক আছে আমি দেখছি। 

ভুক্তভোগী সাংবাদিক কুদ্দুস বিশ্বাস বলেন, আমি ঘটনাটি কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মহোদয়কেও অবহিত করেছি। এ ছাড়া কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের  সভাপতি আহসান হাবিব নীলু ও সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান বিপ্লবকেও জানিয়েছি।

তিনি বলেন, ওইদিন ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় সাংবাদিকরা মানববন্ধন কর্মসূচীর উদ্যােগ নিলে ইউএনও ও থানার ওসি কর্মসূচী পালন করতে নিষেধ করেন। কর্মসূচী পালনে বাঁধা দেন মন্ত্রীর লােকজনরাও। ফলে  মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করতে পারেননি সাংবাদিকরা। তবে রাজিবপুরে সাংবাদিক ও স্থানীয়রা এঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে বক্তারা অনতিবিলম্বে দোকানের তালা খুলে দেয়ারও  দাবী জানান।

দৈনিক ইত্তেফাকের রৌমারী সংবাদদাতা বলেন, আমরা যারা নিয়মিত সাংবাদিকতা করি তারা কোণঠাসার মধ্যে পড়ে আছি।দৈনিক যুগান্তরের রৌমারী প্রতিনিধি বলেন, অপসাংবাদিকতার জন্য প্রেসক্লাবের সভাপতি হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী জাকির হােসেনের  চাচা। প্রেসক্লাবের প্রায় সব সদস্যই মন্ত্রীর ভাই- ভাতিজা। সাংবাদিকতা না করেও মন্ত্রীর প্রভাবে প্রেসক্লাবের সদস্য হওয়ায় প্রকৃত সাংবাদিকরা  অসহায়।

 সাংবাদিক কুদ্দুস বিশ্বাস  তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে  আবেদন করেছেন বলে জানান।

নিযার্তিত সাংবাদিক যে ঘরে তার ব্যক্তিগত অফিস ও ব্যবসা পরিচালনা করেন সেই ঘরের মালিক মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী বলেন, ‘আমার ঘর ব্যবহার করছেন সাংবাদিক কুদ্দুস বিশ্বাস। তার কাছে কােন পাওনা নেই আমার। আমার কােনা অভিযােগ নেই অথচ ঘর ভাড়া বাকী রয়েছে বলে মিথ্যা বানােয়াট কথা বলেছে। আমার ঘরে  তালা লাগানোর নিন্দা জানাই। আমি ইউএনও ও থানার ওসিকে বলে দিয়েছি আমার ঘরে লাগানাে তালা খুল দেয়ার জন্য।’ 

উল্লেখ্য স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হােসেনের অনিয়ম-দুর্নীতি  নিয়ে দৈনিক কালের কন্ঠে গত ২৫ এপ্রিল একটি সচিত্র প্রতিবদন প্রকাশিত হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হােসেন ও তাঁর অনুসারীরা। তাঁর চাচাতাে ভাই মারুফ আহমদ সিক্ত এবং তার সহযোগী ১৫/১৬ জনের একটি সন্ত্রাসী দল গত ২৮ এপ্রিল বুধবার দুপুর ২টার দিকে রৌমারী উপজেলা রােডে কালের কন্ঠের সাংবাদিক কুদ্দুস বিশ্বাসের ব্যক্তিগত অফিস কাম কুরিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উপস্তিত হয়ে সাংবাদিককে  অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হুমকি দিয়ে বলেন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে নিউজ করার ফল ভােগ করতে হবে। এমতাবস্থায় নিরাপত্তার অভাবে ওই সাংবাদিক অফিসের বাইরে চলে যায়। এর কয়েক মিনিট পর মন্ত্রীর ওই ভাই দলবল নিয়ে আবার এসে সাংবাদিককে খুঁজতে থাকে। তাকে না পেয়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা লাগিয়ে দেয়।

এবিষয়ে  রৌমারী উপজেলা নিবার্হী অফিসার আল ইমরান বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে মন্ত্রী স্যারর সঙ্গে যােগাযােগ করার চেষ্টা করেও পাইনি। মন্ত্রীর লােকদের সঙ্গে কথা হয়েছে  তাতে তালা খুলতে মন্ত্রী স্যারর সঙ্গেই কথা বলতে হবে। আমি আজ বিকালে স্যারের বাসভবনে গিয়ে কথা বলে তালা খােলার ব্যবস্থা করবো।’ একই  কথা বলেন রৌমারী থানার ওসি মােন্তাছির বিল্লাহও। তিনি বলেন, ‘আমি কয়েকদিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে ঘুরছি।’ মামলা প্রসঙ্গে বলেন, মামলাও নেয়া হবে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। আমার ইউএনও অনেক চেষ্টা করছেন। আমি মন্ত্রী মহোদয়কে ফোন দিয়েছি। তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

সর্বশেষ