• ২০২১ মে ১৬, রবিবার, ১৪২৮ জ্যৈষ্ঠ ২
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৫ অপরাহ্ন
English

রৌমারীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর দেখে স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তের আদেশ আদালতের

  • প্রকাশিত ০১:০৫ অপরাহ্ন রবিবার, মে ১৬, ২০২১
রৌমারীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর দেখে স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তের আদেশ আদালতের

মোঃ আব্দুল কাদের, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

০৩.০৪.২০২১

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার  ব্রহ্মপুত্র নদে বড় বড় ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত রোববার (০২ মে) কুড়িগ্রাম চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (রৌমারী আমলী আদালত) এর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সুমন আলী স্ব-প্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন। 

আদালত সূত্রে জানা যায়, আদেশে রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-কে বিস্তারিত তদন্তপূর্বক আগামী ৩০ মে তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল দৈনিক মানবকন্ঠ ও ৩০ এপ্রিল দৈনিক সমকাল পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে রৌমারীর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কয়েকটি নদ-নদী থেকে বৃহৎ ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা আদালতের নজরে আসে এবং বিজ্ঞ আদালত স্ব-প্রণোদিত হয়ে অভিযোগ তদন্তের আদেশ দেন।

আদেশে বলা হয়েছে, ‘সংশ্লিষ্ট দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বর্ণিত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন কার্যক্রম ফৌজদারি অপরাধ মর্মে আপাতদৃষ্টিতে আদালতের নিকট প্রতিয়মান হয় এবং উক্তরূপ কার্য বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ০৪ ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন যা উক্ত আইনের ১৫ ধারার অধীন শাস্তিযোগ্য। উপর্যুক্ত অবস্থাধীনে  প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে বর্ণিত অপরাধ দ্যা কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর ১৯৯৮ এর ১৯০ (১) (সি)  ধারায় আমলে গ্রহণ করা হলো এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক বিষয়াদি বিবেচনায় এই আইনের ১৫৬ (৩) ধারার অধীনে সত্যতা অনুসন্ধানের জন্য বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশনা প্রদান করা যুক্তিযুক্ত মর্মে আদালত মনে করে।

আদেশে রৌমারি উপজেলায় সর্বমোট কতটি পয়েন্ট হতে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে তার সংখ্যা ‍নির্ণয়, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের পয়েন্ট সংখ্যা নির্ণয়, অবৈধভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনকারী ও সহায়তাকারীদের সনাক্ত করে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০১১ এর অধীন বিস্তারিত তদন্তপূর্বক আগামী ৩০ মে তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য রৌমারী থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি)-কে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

তদন্তে দৈনিক মানবকন্ঠ ও দৈনিক সমকাল পত্রিকার রৌমারী প্রতিনিধিসহ প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গকে সাক্ষী হিসেবে গণ্য করার নির্দেশনাও দিয়েছেন আদালত।

জানা যায়, রৌমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র, ‍জিঞ্জিরাম ও সোনাভরী নদীসহ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের শতাধিক পয়েন্টে বৃহৎ আকারের ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী মহল। এছাড়াও জেলার সদর, নাগেশ্বরী, উলিপুর, রাজারহাট ও চিলমারী উপজেলায় ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, তিস্তাসহ প্রায় সবকটি নদ-নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও কোন ভাবেই এসব বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। ফলে ভাঙ্গন বৃদ্ধি পেয়ে নদ-নদীর গতিপথ পরিবর্তনসহ স্থানীয়দের ঘর-বাড়ী ও আবাদি জমি প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশের  ওপর এর বিরূপ প্রভাব  পড়ছে।

সর্বশেষ