• ২০২১ Jul ২৫, রবিবার, ১৪২৮ শ্রাবণ ৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদকে না বলি

  • প্রকাশিত ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন রবিবার, Jul ২৫, ২০২১
সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদকে না বলি
ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ক্রাইম রিপোর্টার, এস এম রাহুল 

১৮.০৫.২০২১

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ও আওয়ামী লীগ সরকারের জঙ্গিবাদে জিরো টলারেন্সের এক পর্যালোচনায় একসু, আইইবির সংগ্রামী ভিপি-অলোক সরকার বলেন ইতিহাস কখনো মুছা যায় না।

তিনি পর্যলোচনার শুরুতেই ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছে, মুজিব কন্যা দেশরত্ন গণতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আপা কে জঙ্গিবাদে জিরো টলারেন্স ঘোষণার করার জন্য।

দক্ষিণ এশিয়ায় সমাজের বিভিন্ন স্তরে উগ্র মৌলবাদ এখন একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা। এই মৌলবাদ চরমবাদে এবং চরমবাদ জঙ্গিবাদে রূপ নিচ্ছে। নির্মম বাস্তবতা হল, জঙ্গিবাদ এবং জঙ্গিবাদের সম্ভাব্য উত্থান এই অঞ্চলের শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সভ্যতার জন্য বড় আকারের হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে জঙ্গিবাদ বিস্তারের পরিধির তারতম্য থাকলেও এর পিছনে রাজনৈতিক ভূমিকা প্রায় একই। অপরাজনীতির কারণেই আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মতো সমাজে জঙ্গিবাদের শিকড় খুব গভীরে। উদাহরণস্বরূপ, এই দুটি দেশেই জঙ্গি গোষ্ঠী এবং তাদের সমর্থকরা জাতীয় এবং স্থানীয় নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখে।

শুধু দক্ষিণ এশিয়ার নয়, জঙ্গিবাদ এখন বৈশ্বিকভাবে প্রধান সমস্যা। দু'দশক আগেও শুধু আল কায়েদা এবং তালেবান নামে দুটি জঙ্গি সংগঠনের বিশ্বব্যাপী পরিচিত ছিল। এখন এই দুই সংগঠনসহ নাইজেরিয়াতে বোকো হারাম, সোমালিয়াতে আল-শাহব, সিরিয়াতে আইএস, বিন লাদেন-ফ্রন্ট লাইন ও আল নুসরা এবং লিবিয়াতে আনসার আল-শরিয়ার মতো বহু জঙ্গি সংগঠন রয়েছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, সারা বিশ্বে ছোট বড় সর্বমোট জঙ্গি সংগঠনের সংখ্যা পাঁচ হাজার।

২০১৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একটি ক্যাফেতে জঙ্গি হামলা হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই ২০১৫ সালের ৮ জানুয়ারি ফ্রান্সের প্যারিসে রম্য সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘শার্লি এবদো’র কার্যালয়ে হামলায় নিহত হন পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদকসহ আট সাংবাদিক, দুই পুলিশ সদস্য ও অন্য দুজন। জঙ্গিবাদের সমস্যাটি এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছে যে, এখন উন্নত বিশ্বের দেশগুলিতেই জঙ্গিবাদ জন্ম নিচ্ছে। বাইরে থেকে গিয়ে জঙ্গি হামলা করার প্রয়োজনীয়তা আর নেই। তবে এখনও পশ্চিমা বিশ্বে ‘হোম-গ্রোন’ জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি এশিয়া ও আফ্রিকার মতো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি।

বিশ্বে এখনও পাকিস্তান ও আফগানিস্তানই জঙ্গি গোষ্ঠীর সবচেয়ে নিরাপদ আস্তানা এবং এই দেশ দুটিই বিশ্বব্যাপী জঙ্গিবাদ ‘রপ্তানি’ করে বেড়াচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জঙ্গি সংগঠনের অধিকাংশই পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান-কেন্দ্রিক। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও রাজনৈতিক সুবিধাবাদের জন্যই কিছু কিছু রাজনৈতিক দল আদর্শিক এবং সামাজিকভাবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে ধর্মীয় উগ্র গোষ্ঠীগুলোকে। তাই এ দেশেও এক সময় এই উগ্রবাদ জঙ্গিবাদে রূপ নিয়েছিল।

সুন্নি জঙ্গি সংগঠন ‘ইসলামিক স্টেট’ (আইএস) ইসলামিক খেলাফত ঘোষণার পর দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা বেশ ঝুঁকিতে পড়ে যায়। একটি নিরব হুমকি রয়েছে এই অঞ্চলের প্রত্যেক দেশের জন্য। ১৯ জানুয়ারি ২০১৫ সালে রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী এবং খিলক্ষেত থেকে ‘আইএস’এর চার সদস্যকে গোয়েন্দারা আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে বাংলাদেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইএসের প্রধানও রয়েছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তান-কেন্দ্রিক আল কায়েদা এবং তালেবানের বহু শীর্ষনেতা তালেবান নেতা মোল্লা ওমরকে বাদ দিয়ে আবু বকর আল বাগদাদিকে বিশ্বস্ত নেতা হিসেবে মেনে নিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই আইএস তাদের সদস্য নিয়োগ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তান থেকেই বেশি সদস্য নিয়োগ করছে তারা।

[লিংক:

http://www.dawn.com/news/1143133]

‘আইএস’এর তথাকথিত ইসলামিক খেলাফতের ভৌগোলিক সীমারেখা যে কেবল সিরিয়া এবং ইরাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তা তারা বিশ্ববাসীকে অনেক আগেই জানিয়ে দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশের মতো জঙ্গি-উত্থানের জন্য সম্ভাবনাময় দেশগুলির চিন্তা বহু গুণে বেড়ে যাওয়াই যৌক্তিক ও সঙ্গত।

বাংলাদেশের জঙ্গি রাজনীতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কিছু উগ্র ধর্মীয় সংগঠন ১৯৮০ সাল থেকেই তাদের কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে পরিচালনা করে আসছে। মোহাম্মদ আজিজুর রহমান এবং মোহাম্মদ বিন কাসেম ২০১১ সালে একটি গবেষণাপত্রে উল্লেখ করেন যে, ‘আমরা ঢাকাবাসী’ ও ‘খাতুমে নবিয়াত আন্দোলন’ (এটি পাকিস্তানের অংশ) ১৯৮০ সালে থেকে পাকিস্তানের খাতুমে নবিয়াতের অর্থায়নে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে।

[লিংক:

http://www.scribd.com/doc/215209705/]

Understanding Religious Militancy and Terrorism in Bangladesh

সুইডিশ সাংবাদিক ও লেখক বারটিল লিন্টনার ১৯৯১ সালে কক্সবাজারের রোহিঙ্গাদের উপর একটি প্রতিবেদন নির্মাণ করেন। সে প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, ১৯৮০ সালের প্রথম দিকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গারা তাদের একমাত্র রাজনৈতিক সংগঠন Rohingya Patriotic Front (RFT) ভেঙে মোহাম্মদ ইউনুসের (আরকান) নেতৃত্বে Rohingya Solidarity Organisation (RSO) নামে একটি জঙ্গি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে। সংগঠনটির কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা উখিয়া থেকে পরিচালিত হয়।

জঙ্গিবাদের সমস্যাটি এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছে যে, এখন উন্নত বিশ্বের দেশগুলিতেই জঙ্গিবাদ জন্ম নিচ্ছে

লিন্টনার আর উল্লেখ করেন যে, RSO বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামী, আফগানিস্তানের গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ারের হিজবি-ই-ইসলাম, কাশ্মীরের হিজবুল-মুজাহিদিনসহ বহু জঙ্গি সংগঠন থেকে অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা পেয়ে আসছে। আফগান জঙ্গি প্রশিক্ষকরা উখিয়াতে RSO এর কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তিনি লিখেছেন:

Afghan Instructors were seen in some of the RSO camps along with the Bangladesh-Burma border while nearly 100 RSO rebels were reported to be undergoing training in the Afgan province of Khost with Hizb-e-Islami Mujahideen.

[সূত্র:

‘Tension Mounts in Arakan State’, Jane’s Defence Weekly

১৯৯১ সালে কক্সবাজার এলাকা ও রোহিঙ্গা মিলিটারি ক্যাম্পগুলোতে রোহিঙ্গা ও অন্যান্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই নিউজ স্টোরি তৈরি করা হয়েছে]

১৯৭৯ সাল থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত অনেক বাংলাদেশি মুজাহিদিন আফগানিস্তানে গিয়েছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সৈন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে। যুদ্ধ সমাপ্তির পর তারা দেশে ফিরে আসে বাংলাদেশকে একটি শরিয়াভিত্তিক ইসলামিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে। কত সংখ্যক বাংলাদেশি মুজাহিদিন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে তার পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। তবে তখনকার ডানপন্থী রাজনীতির আদর্শিক বন্ধু প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সরকার বাংলাদেশি মুজাহিদিনদের মদদ দিয়েছিল বলে জানাচ্ছেন লিন্টনার, ২০০২ সালে মোহাম্মদ গোলামের বরাত দিয়ে এক লেখায় তিনি উল্লেখ করলেনঃ

The late Bangladeshi scholar Muhammad Gulam agrued that Maj. Gen. Ziaur Rahman, who seized power in the middle 1970s ‘successfully changed the image of Bangladesh from a liberal Muslim country to an Islamic country.

[লিংক:

http://www.satp.org/satporgtp/publication/faultlines/volume14/Article1.htm

‘Bangladesh Extremist Islamist Consolidation’]

জিয়াউর রহমানের এই ভূমিকার পিছনে মূল কারণটি ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন-ভারত বলয়ের বিরোধী শক্তি আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা।

সুইডিশ সাংবাদিক ও লেখক বারটিল লিন্টনার ১৯৯১ সালে রোহিঙ্গাদের উপর একটি প্রতিবেদন নির্মাণ করেনঃ

জেনারেল এরশাদের শাসনামলে কোনো শক্তিশালী উগ্রবাদী কার্যক্ষম লক্ষ্য করা যায়নি। এর পেছনে মোটা দাগে দুটি কারণ ছিল। প্রথমত, আফগান-সোভিয়েত যুদ্ধে দেশীয় মুজাহিদিনরা আফগানিস্তানের মুজাহিদিনদের পক্ষে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। ফলে ১৯৮৯ সালে যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশে কোনো ধরনের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড দেখা যায়নি। দ্বিতীয় কারণটি হল, জেনারেল এরশাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে অন্যান্য বিরোধী দলগুলি, এমনকি জামায়াতে ইসলামীও অভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন করে আসছিল। বড় দুটি দলের মধ্যে রাজনৈতিক সমন্বয় থাকায় ধর্মীয় উগ্রবাদ ততটা লক্ষ্য করা যায়নি।

প্রসঙ্গত, অনেক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত সময়কালকে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ‘ইনকিউবেশান পিরিয়ড’ বলে মনে করেন। রহমান এবং কাসেম তাদের সেই গবেষণাপত্রে উল্লেখ করেন যে, ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশীয় জঙ্গি গোষ্ঠীর উত্থান এবং দেশে-বিদেশে তাদের নেটওয়ার্কের ব্যাপক প্রসার ঘটেঃ

Since 1999, Bangladesh has witnessed the rise of militant groups and terrorist outfits both homegrown and internationally linked including al-Qaeda.

২০০১ সাল থেকে ২০০৭ সালের শেষ পর্যন্ত জঙ্গিবাদের ভয়াবহ রূপ বাংলাদেশ দেখেছে। বেড়ে গিয়েছিল যত্রতত্র বোমা হামলার ঘটনা। এসব বোমা হামলায় মারা গেছে অসংখ্য মানুষ। মূলত, মূলধারার রাজনীতি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবেঃ

Islamist radicalization, extremism and militancy have gained accelerated currency in Bangladesh politics in recent years.

[সূত্র:

Riaz, 2008; Quamruzzaman, 2010; Datta, 2007]

২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত যে সকল জঙ্গি সংগঠন অবাধে তাদের কার্যকলাপ পরিচালনা করেছিল, তাদের মধ্যে চারটি জঙ্গি গোষ্ঠী জনবল, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, সক্ষমতা ও দক্ষতার জন্য বেশি আলোচিত ছিল। সেগুলো হল, জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি), জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি), হরকাতুল জিহাদুল ইসলামী ও হিজবুত তওহিদ। বাংলাদেশে জঙ্গি গোষ্ঠীর উত্থান দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম, গবেষক ও পশ্চিমা দুনিয়ার আগ্রহের কারণ হয়ে দাড়ায়। তারা খুঁজতে থাকে বাংলাদেশ জঙ্গি গোষ্ঠীর নতুন আশ্রয়স্থল হওয়ার পিছনের কারণ এবং জঙ্গি গোষ্ঠীর কার্যক্ষমের পরিধির বিষয়ে।

আফগান-সোভিয়েত যুদ্ধে দেশীয় মুজাহিদিনরা আফগানিস্তানের মুজাহিদিনদের পক্ষে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল।

বিশ্বব্যাপী এই জঙ্গিবাদের উত্থানের জন্য তৎকালীন বিএনপি-জামাত সরকারে জঙ্গিবান্ধব মনোভাব এবং অনেকে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সহায়তাকেই দায়ী করা হয়। জঙ্গিদের আইনের আওতায় আনার জন্য বিভিন্ন পর্যায় থেকে চাপ থাকায় বিএনপি-জামাত জোট সরকার ২০০৫ সালের শেষের দিক দিয়ে কিছু ব্যবস্থা নেয়; কিছু জঙ্গি নেতার ফাঁসি হয়েছিল তখন। ২০০৭ সালে দত্ত এক লেখায় উল্লেখ করেনঃ

The government has not taken any action against this Islamist militancy until 2005 despite local and international media reports and even political and civil society concerns.

[সূত্র:

‘Islamic militancy in Bangladesh: The threat from within South Asia’: Journal of South Asian Studies, 30 (1), 145-170]

অনেকটা অনিচ্ছায় বিএনপি-জামাত জোট সরকারকে এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল। অনিচ্ছায় বলছি এ জন্য যে, জঙ্গিদের কর্মকাণ্ড দমনে যে সব পদক্ষেপ, কৌশল ও রাজনৈতিক ইচ্ছা প্রয়োজন ছিল, তার কোনোটিই বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ছিল না। ২০০৩ সালের ডিসেম্বর মাসে কানাডিয়ান ইন্টেলিজেন্স সিকিউরিটি সার্ভিসেস এক রিপোর্টে উল্লেখ করেঃ

Bangladesh government is not doing enough to prevent the country from becoming a haven for Islamic terrorists in South Asia and pointed out that religious extremists are connected to Al Qaeda.

[সূত্র:

Canadian Security Intelligence Service (CSIS) in December 2003]

বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের অনেক নেতাই জঙ্গি গোষ্ঠীর ‘গডফাদার’ হিসেবে কাজ করেছিলেন। জঙ্গি সংগঠন জেএমজেবির নেতা মওলানা শায়খ রহমান ও বাংলা ভাইয়ের সঙ্গে বিএনপির একাংশের এবং জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্কটি ছিল ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট’। বিএনপি-জামাত জোট সরকারের তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল ইসলাম (জঙ্গি কর্মকাণ্ডের উপদেষ্টা), ভূমি উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস দুলু (২০০৪ সালে এপ্রিল মাসে দুলুর বাসায় শায়খ আবদুর রহমান ও বাংলা ভাই দলবল নিয়ে মিটিং করেন), গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির (যিনি মোবাইলে শায়খ রহমান ও বাংলা ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতেন এবং ওদের বাসায় দাওয়াত দিয়েছিলেন), তৎকালীন মেয়র মিজানুর রহমান মিনু (মাহাবুব নামের এক জঙ্গির কাছে বাংলা ভাইয়ের জন্য ৫০ হাজার টাকার ব্যাংক চেক দিয়েছিলেন), সাবেক সংসদ সদস্য নাদিম মোস্তফা (যিনি পুঠিয়া থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা বাংলা ভাইয়ের হাতে তুলে দেন) ও সংসদ সদস্য আবু হেনার (যিনি আপন ভাতিজার মাধ্যমে বাংলা ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন) নিবিড় সম্পর্ক ছিল জেএমজেবির সঙ্গে।

[সূত্র:

প্রথম আলো; ৩০ জানুয়ারি, ২০০৭]

বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠনের সংখ্যা নির্ধারণের জন্য অনেকগুলি স্বতন্ত্র গবেষণা হয়েছে। রহমান ও কাসেমের গবেষণা (২০১১) অনুযায়ী, দেশে জঙ্গি সংগঠনের সংখ্যা ৭০। ২০০৫ সালে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ৩৩টি ইসলামি জঙ্গি সংগঠনকে শনাক্ত করেছিল। পরে, ২০০৯ সালে নিরাপত্তা এজেন্সিগুলোও ৩৩টি জঙ্গি সংগঠন রয়েছে বলে সরকারকে রিপোর্ট দিয়েছিল।

জঙ্গি সংগঠনের সংখ্যা কম বেশি হয়। কারণ কৌশলগত কারণে ওদের চেহারা বদলায়, নতুন নামে আত্মপ্রকাশ করে। রহমান ও কাসেমের গবেষণায় (২০১১) দেখা যায় যে, দেশে ১৮ জানুয়ারি, ১৯৯৯ থেকে ৪ নভেম্বর, ২০১০ পর্যন্ত প্রায় ১০০টি জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। বোমা হামলায় নিহত হয়েছে ১৩৬ জন, আহত হয়েছে ২ হাজার ৪৮৮ জন।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য জঙ্গি হামলা গুলো-

বাংলাদেশে ১৯৯৯ সালের ৭ মার্চ মাস যশোরে উদীচী শিল্প গোষ্ঠীর উপর প্রথম বোমা হামলা হয়। মারা যায় ১০ জন, আহত হয় ১০৬ জন।

একই বছরের অক্টোবরের ৮ তারিখে খুলনায় আহমদিয়াদের মসজিদে বোমা হামলায় মারা যায় আট জন, আহত হয় ৪০ জন।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিলে রমনা পার্কের বটমূলে বাংলা নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় ১০ নিহত ও একশরও বেশি আহত হয়েছে।

২০০১ সালের শেষের দিকে, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বরে, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সভায় জঙ্গিদের বোমা হামলায় ৮ এবং ৪ জন যথাক্রমে মারা যান। আহতের সংখ্যা শতাধিক।

২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরাতে শক্তিশালী দুটি বোমা হামলায় মারা যায় ৩ জন, আহতের সংখ্যা ছিল ১২৫এরও বেশি।

একই বছরের ৭ ডিসেম্বর সিরিয়াল বোমা হামলা চালানো হয় ময়মনসিংহের সিনেমা হলগুলিতে। মারা যায় ১৮ জন, আহত হয়েছিলেন ৩০০।

২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জে শহরে দানিয়ার এক মেলাতে বোমা হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয় ৮ জনকে। আহত হন অনেকে।

২০০৪ সালের ১২ জানুয়ারি সিলেটের হযরত শাহ জালাল দরগার শরীফে এক বোমা হামলায় ১০ জন মারা যায় এবং আহত হয় ১৩৮ জন।

২১ মে, ২০০৪ সিলেটে তখনকার ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীকে লক্ষ্য করে চালানো বোমা হামলায় হাইকমিশনার বেঁচে গেলেও মারা যায় অন্য দুজন, আহত হয় ২০ জন।

একই বছরের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ানক সিরিয়াল গ্রেনেড হামলার ঘটনাটি ঘটে। এতে নিহত হয় ২৩ জন, আহত হয় পাঁচ শতাধিক। এ হামলায় তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের একটি বৃহৎ অংশ, বিশেষ করে বিএনপির শক্তিশালী তরুণ নেতৃত্ব ও জামাতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে; বিষয়টি এখন বিচারাধীন। আওয়ামী লীগ প্রধান তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনা মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেলেও মারা যান মহিলা আওয়ামী লীগ প্রধান আইভি রহমান।

২০০৫ সালে ১ জানুয়ারি বগুড়া ও নাটোরে বোমা হামলায় মারা যায় ৩ জন, আহতের সংখ্যা সত্তরের অধিক।

একই মাসে হবিগঞ্জের বৈধর বাজারে আওয়ামী লীগের সমাবেশে বোমা হামলায় মারা যান সাবেক অর্থমন্ত্রী গোলাম কিবরিয়াসহ পাঁচ জন। আহত হয় ১৫০ জন।

জেএমজেবির নেতা শায়খ রহমান ও বাংলা ভাইয়ের সঙ্গে বিএনপির একাংশের এবং জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্কটি ছিল ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট’

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারা দেশে একযোগে প্রতিটি জেলায় বোমা হামলা করা হয়। জঙ্গিরা তাদের অপারেশনাল সক্ষমতা কেমন তা দেশবাসীকে জানান দেয় এভাবেই।

নভেম্বরের ১৪ তারিখে ঝালকাঠিতে দু’জন সহকারী জেলা জজকে বোমা মেরে হত্যা করা হয়।

২৯ নভেম্বরে চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও টাঙ্গাইলে একসঙ্গে বোমা হামলা করা হয়। এ হামলায় নিহতের সংখ্যা ৯, আহতের সংখ্যা ৭৮।

২০০৬ সালের ৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনায় উদীচী কার্যালয়ের সামনে এক বোমা হামলায় নিহত হয় ৮ জন, আহত ৪৮ জন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সাল থেকে ২০১০ সালের মধ্যে বোমা হামলায় এক বছরে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা ৩৭, সেটা ২০০৪ সালের ঘটনা । ২০০৫ সালে বিভিন্ন হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা ৩৬। আহতের দিকে দিয়ে ২০০৫ সাল এগিয়ে (৯৫২ জন); তারপর রয়েছে ২০০৪ সাল (৭৬৫ জন)।

গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০৩ সালে জেএমবি, হিজবুত তাহিরির, হরকাতুল-জিহাদ-উল-ইসলাম (হুজি) ও ইসলামিক বিপ্লবী পরিষদকে (আইডিপি) নিষিদ্ধ করার জন্য বিএনপি-জামাত জোট সরকারকে পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু সরকারের ভিতরের জঙ্গিবাদের সমর্থক অংশের বাধার কারণে সরকার তা করতে ব্যর্থ হয়, বরং জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সহায়তা দিয়ে যাওয়া হয়েছে।

দেশের ভিতরে যে সকল জঙ্গি সংগঠন সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী তাদের জন্ম, উদ্দেশ্য,পরিধি, অর্থায়নের উৎস সহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য নিচে দেওয়া হল। নিজের বর্ণিত তথ্যের উৎস হল: ‘বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ’ (BIPSS: http://www.bipss.org.bd/), ‘সাউথ এশিয়া টেরোরিজম পোর্টাল’ (SATP: www.satp.org) এবং রহমান এবং কাসেমের ২০১১ সালের গবেষণাপত্র।

১৯৯২ সালে Harkat-ul-Jihad-al Islami (HUJI) ওসামা বিন লাদেনের সহযোগিতায় শওকত উসমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে শাখা খোলা হয় (www.satp.org)। উদ্দেশ্য ছিল, জিহাদের মাধ্যমে ইসলামিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা। বিন লাদেনের আল কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক ছাড়াও পাকিস্তানের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক ছিল। কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকায় ছয়টি ক্যাম্প করে সৌদি আরবের অর্থায়নে বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্রসহ রোহিঙ্গাদের প্রশিক্ষণ দিত (US State Dept)। এ জঙ্গি সংগঠন দেশের দেওবন্দ আদর্শের অনুসারী মাদ্রাসা থেকে ছাত্রদেরকে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের জন্য নিয়োগ দিত। ২০০১ সাল থেকে জোট সরকারের শাসনামলে তাদের কার্যক্রম বেড়ে যায়।

সংগঠনটি বন্ধের জন্য বিদেশিদের চাপ ও তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সমালোচনার মুখে বিএনপি সরকার ২০০৫ সালে অক্টোবর মাসে সংগঠনটি নিষিদ্ধ করে।

১৯৯৪ সালে হিজবুত তৌহিদ (Hizbut Towhid, HT) নামে আরেকটি সংগঠন একইভাবে জিহাদের মাধ্যমে ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য কার্যক্রম পরিচালনা করে যা পরবর্তীতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

১৯৯৪ সালে প্রফেসর ড. আসাদুল্লাহ আল গালিবের নেতৃত্বে Ahle Hadith Andolon, AHB বাংলাদেশি শাখা Ahle Hadith Andolon,Bangladesh, AHAB খোলা হয়। AHB একটি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন। এ সংগঠন ৪২ জেলায় ৭০০ মাদ্রাসায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দক্ষিণ এশিয়া ও সৌদি আরবের আল কায়েদার সঙ্গে গভীর সম্পর্কের কথা রাজশাহীতে সংগঠনটির একটি কনফারেন্সে প্রকাশ পায়। ড. গালিব সংগঠনের কর্মীদের জেএমবি ও হুজি সামরিক প্রশিক্ষকের মাধ্যমে জঙ্গি প্রশিক্ষণ দেন। পাকিস্তানের বিভিন্ন মাদ্রাসায়ও নেতা-কর্মীদের জঙ্গি প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করেন।

২০০৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয় ড. গালিবকে। তার কাছ থেকে জানা যায় অর্থায়নের উৎস। অর্থায়নের উৎস হিসেবে সৌদি আরবের ‘হায়েতুল ইগাচ্ছা’ ও কুয়েতের ‘সোসাইটি ফর দি রেনেসাঁ অব ইসলামিক লিগেসি’ নামক দুটি সংগঠনের নাম জানা যায়।

সশস্ত্র ‘শাহাদাত আল হিক্কমা’ ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, ২০০১ সালে একটি এনজিও হিসেবে এটি কার্যক্ষম শুরু করে। নেতৃত্বে ছিলেন সৈয়দ কাওসার হোসেন। এ সংগঠনটিকে ইসলামিক ছাত্র শিবিরের (ICS) বর্ধিত অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কারণ এর মূল নেতৃত্বের সবাই শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। দেশে জেএমবি, তৌহিদি জনতা, বিশ্ব ইসলামিক ফ্রন্টসহ আরও দুটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে ‘শাহাদাত আল হিক্কমা’র গভীর সম্পর্ক ছিল। কাশ্মীরের ‘লস্কর-ই-তৈয়বা’সহ নেপালের সশস্ত্র মাওবাদীদের কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করত তারা। দুবাই-ভিত্তিক মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিম সংগঠনটির মূল অর্থায়নকারী। পাশাপাশি, ‘জামাতুল–মুজাহিদিন বাংলাদেশ’, জেএমবি, ‘বিশ্ব ইসলামিক ফ্রন্ট’সহ অনেক জঙ্গিবাদী সংগঠনও অর্থায়ন করত তাদের।

২০০৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এক প্রেস কনফারেন্সে সৈয়দ কাওসার হোসেন দাবি করলেন যে, বিএনপি সরকারের কিছু কেবিনেট মন্ত্রী তাদের এই কার্যক্ষমের সঙ্গে জড়িত। তার এ দাবির পরের দিন, ৯ ফেব্রুয়ারি বিএনপি-জামাত জোট সরকার সংগঠনটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

১৯৯৮ সালে ‘জামাতুল–মুজাহিদিন বাংলাদেশ’, জেএমবি Ahle Hadith Andolon, AHD এর আদর্শ অনুসরণ করে গঠিত হয়। এ সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন মাওলানা সাইদুর রহমান। বাংলাদেশের জঙ্গি জগতে AHAB এর প্রধান ড. গালিবের সঙ্গে সাইদুর রহমানের সবচেয়ে সুসম্পর্ক ছিল। তারা জঙ্গি কর্মকাণ্ডকে কীভাবে রাজনৈতিক মদদে প্রসারিত করা যায় তা নিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় অনেক বার সভা করেছিল। এ জঙ্গি দলটির পেছনে বিএনপি-জামাতের পৃষ্ঠপোষকতা ছিল (Rahman and Kashem, 2011)।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ানক গ্রেনেড হামলার ঘটনাটি ঘটে

অপারেশনাল ক্ষমতার সাপেক্ষে এ সংগঠন ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী। আন্তর্জাতিক ইসলামি জঙ্গি সংগঠন ‘লস্কর-ই-তৈয়বা’র (LeT) সঙ্গে জেএমবির নেটওয়ার্ক খুবই শক্তিশালী। ২০০৫ সালে এক ঘণ্টার মধ্যে দেশের প্রত্যেকটি জেলায় বোমা হামলা চালিয়ে নিজেদের সক্ষমতার জানান দিয়েছিল এ জঙ্গি গ্রুপ। দলটির রয়েছে শক্তিশালী সুইসাইড স্কোয়াড। ২০০৩ সালে এর কিছু সদস্য ইউরেনিয়াম অক্সাইডসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।

In 2003, some members were arrested with fissile materials (225 gram of Uranium oxide) which was later traced to Kazakhastan.

২০০৫ সালে ২৩ ফেব্রুয়ারি এটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর জেএমবির কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সংগঠনটি গোপনে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

Various reports including the study of the Brussels-based International Crisis Group showed that despite the execution of the key figures of JMB in 2007 along with apprehension of many leaders, JMB started to regroup and reconsolidate.

আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘হিজবুত-তাহরর’ বাংলাদেশে শাখা খোলে ২০০০ সালে মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে। বিশ্বব্যাপী খেলাফত ও মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই সংগঠনটির উদ্দেশ্য। সভা-সেমিনার করে আদর্শ প্রচার করার কৌশল নেয় সংগঠনটি। সংগঠনটির কোনো গঠনতন্ত্র কিংবা সাংগঠনিক কমিটি নেই। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদেরকে ‘হিজবুত-তাহরীর’এর কর্মকাণ্ডে লিপ্ত করা হয়। এর আদর্শ মার্কিন সাম্রাজ্যবিরোধী হওয়ায় বেশ দ্রুতই তরুণ সমাজকে কাছে পায় এরা।

সংগঠনটির বিরুদ্ধে কোনো জঙ্গি কার্যক্ষমের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। কিন্তু একে নিষিদ্ধ করার জন্য আমেরিকার চাপ ছিল। ২০০৯ সালে ২২ অক্টোবর মহাজোট সরকার এটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এর ‘থিংক ট্যাংক’ হিসেবে কাজ করতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।

রহমান এবং কাসেম তাদের গবেষণাপত্রে উল্লেখ করেন:

Dhaka University management lecturer Golam Mowla, IBA lecturer Mohiuddin Ahmad, Public administration lecturer Sheikh Towfik, Kazi Morshedul Haque, and London returns Dr. Nasimul Gani, Kawser Shahnewaj who launched Tahrir works with Golam Mowla whom they met in London in 1993.

‘ইসলামিক বিপ্লবী পরিষদ’, IDP নামক জঙ্গি সংগঠনটি ২০০১ সাল থেকে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাওলানা আবদুল জব্বারের নেতৃত্বে বাংলাদেশে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। ১৯৮০ সালের গোঁড়ার দিকে আভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে জামাত-শিবির থেকে বের হয়ে গেলেও তাদের সঙ্গে এ জঙ্গি নেতার সম্পর্ক ভালো ছিল। প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির পথপরিক্রমায় পরে তার গুরুত্ব বেড়ে যায়। জঙ্গি গ্রুপটির উদ্দেশ্য ছিল, আফগানিস্তানের তালেবানি স্টাইলে শরিয়াভিত্তিক সমাজ কায়েম করা। আফগান-ফেরত যোদ্ধাদের অর্থায়নে এর জঙ্গি কর্মকাণ্ড পরিচালিত হত। বর্তমানে সংগঠনটি কালো তালিকাভুক্ত।

এর আদর্শ মার্কিন সাম্রাজ্যবিরোধী হওয়ায় বেশ দ্রুতই তরুণ সমাজকে কাছে পায় এরা

‘আল্লার দল’ নামের জঙ্গি সংগঠনটি জিহাদের মাধ্যমে দেশে শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য AHAB ও JMB এর সহযোগিতায় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। এ দলটি গঠিত হয় ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রাক্তন দুই নেতা, মতিউল ইসলাম ও বাবুল আনসার নেতৃত্বে। সরকার এই সংগঠনকেও কালো তালিকাভুক্ত করেছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে আবারও জঙ্গি সংগঠনগুলি সংগঠিত হতে শুরু করে। সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’এর কারণে এসব জঙ্গি গোষ্ঠীর সকল চেষ্টাই ব্যর্থ হয় এবং এখনও তাই হচ্ছে। তবে জঙ্গিদের কার্যকলাপ বন্ধ রয়েছে এ ধরনের চিন্তা করা দেশের জন্য আত্নঘাতী হবে।

সরকারের সাঁড়াশি অভিযানের কারণে জেএমবিসহ বহু সংগঠন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকায় জঙ্গিবান্ধব গোষ্ঠী বিভিন্ন ধরনের চোরাকারবারে বিনিয়োগকৃত অর্থ থেকে মুনাফা দিয়ে জঙ্গি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।

পশ্চিমবঙ্গের সারদা স্ক্যামের টাকার একটি বড় অংশ বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীের বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের পাশাপাশি সীমান্ত চোরাকারবারেও বিনিয়োগ রয়েছে বলে গোয়েন্দারা জানতে পারে। বাংলাদেশ এবং ভারতের গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বিনিয়োগকৃত টাকার লভ্যাংশ জঙ্গিদের কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জঙ্গিরা নতুন নতুন নামে আত্মপ্রকাশ করছে। যেমন, ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’। সংগঠনটি ‘আইএস’এর জন্য বাংলাদেশ থেকে সদস্য সংগ্রহ করছে। ২০১৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে এ টিমের সদস্য আসিফ আদনান এবং ইস্কাটন থেকে ফজলে এলাহী তানজিলকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। উল্লেখ্য, আসিফ আদনানের পিতা একজন সাবেক বিচারপতি এবং এলাহীর মা একজন যুগ্ম সচিব।

ভিপি বলেন, নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য যে কোনো ধরনের উগ্রবাদের প্রশ্রয় দেওয়ার মতো ভয়ংকর কাজটি না করাই উত্তম।

মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিকাশ বা জঙ্গি গোষ্ঠীর উত্থানের আশঙ্কার পেছনে ধর্মীয় উগ্রতার চেয়ে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলির সুবিধাবাদই বেশি দায়ী।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দরবারে উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসাবে মাথা উচু করে দাঁড়িয়েছে।

পরিশেষে ভিপি ব্যাক্তিগত ভাবে দেশবাসীর সকলের কাছে অনুরোধ করে বলেন, যে কোন ধরনের উগ্রবাদীতা থেকে বের হয়ে সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের সকল মিশন ও ভিষণ সম্পূর্ণ করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

সর্বশেষ