এটা একটা সিনেমা হতে পারে। সুন্দর মুভি। আই ওয়াজ দ্য লাস্টম্যান টু লিভ দ্য কান্ট্রি। আমি কোন অন্যায় করিনি। কাউকে কোন দিন জেলে পাঠাইনি। কোন চুরি-চামারি করিনি। সো আই ওয়াজ কনফিডেন্ট। আমি কেন পালাব?
কিন্তু যখন কর্নেল সাব আমাকে ফোন করে বললেন, স্যার উই উইল প্রটেক্ট ইউ। তখন আমার সবাই বললো, স্যার আপনার নাম্বার পেয়ে গেছে। এখান থেকে পালান।
আমি কোনো আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাইনি। আমার সব আত্মীয়-স্বজন পাবলিকলি নোন। আমি অন্যান্য লোকের যেমন রেন্ট হাউসের বাড়িতে ছিলাম। এইটা আমার খুব কাজ দিয়েছে।
এক বাসার মালিকের সঙ্গে দেখা হয়েছিলো। সেই মালিককে আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনার বাসা তো সুন্দর। উনাকে আমি আগে চিনতাম।
উনি বললেন, আমরা গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। হোটেলে আমাদের বায়ারকে রাখি না। বাসায় রাখি। এজন্য বাসা সুন্দর করে রাখি। এখন যেহেতু দেশে কোন বায়ার আসছে না। কেউ আসলে সিঙ্গাপুর কিংবা ব্যাংকক পর্যন্ত আসে। ঢাকায় ভয় পায় আসে না। সেজন্য সব খালি। তার জন্য আপনি ভাড়া পাচ্ছেন।
আমি পালিয়ে পালিয়ে ছিলাম। যাতে বাইরে কেউ না চিনতে পারে। মবের জ্বালায় চেহারা-টেহারা সব পরিবর্তন করে ফেলেছি।
যখন নাপিতের কাছে গেলাম এক বাসায় গেলাম। সার্টেন টাইমে ওই বাসায় এক নাপিত এলো। সেটি আমার বাসা না। আরেকজনের বাড়িতে। যাতে ওই নাপিত কাউকে বলতে না পারে কোথায় আমার সঙ্গে দেখা হয়েছে।
এটা লং স্টোরি। বহুত কষ্ট করে বের হয়েছি। আমার বউয়ের প্রেসারে ও উনার বুদ্ধিতে বের হয়েছি। এই যে বের হইছি কিছু জানি না। কারণ আমি তো ফোনে কথা বলতে পারি না। শি মেক দিস এরেঞ্জমেন্ট।
দেশে অনেক ফড়িয়া আছে আপনাকে বিদেশ পাঠানোর জন্য। ওগুলো সবগুলোই মানি মেকিং। শুধু টাকা নেয়। আমি জীবিত আছি। আর মানুষের দোয়া। বহু লোক আমার জন্য দোয়া করেছে। ওমরাহ্ হজ করেছে। আমি তো অনেককেই চিনি না। বাট ডিড ইট।
বিমানবন্দর আপনি যেতেই পারবেন না। ধারে কাছেও না। পালাইয়া আসছি। বিভিন্নভাবে পালিয়ে আসছি। বলা যাবে কোনো এক সময়। এখনো বলতে চাচ্ছি না। কারণ সরকারি লোকরাই আমাকে সাহায্য করেছে।
আমরা সাদাসিধে মানুষ। দেশটাকে বাঁচাতে হবে। দেশটাকে জঙ্গি দেশ বানাতে চাই না। এ ব্যাপারে সবার উদ্যোগ নেয়া দরকার।
- এ কে আবুল মোমেন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
মতামত দিন