গণপুর্ত অধিদপ্তরে শুন্যপদে নিয়োগ হাইকোর্টে রিট অনিয়মের অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি জয়নাল আবেদীন টাইম বাংলা নিউজ
গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীন সেট-আপভূক্ত গ্রেড-১৪ হতে গ্রেড-২০ পর্যন্ত মোট ০৮ ক্যাটাগরির ৬৬৯টি শূন্য পদে সরাসরি জনবল নিয়োগের পরীক্ষা, ভাইবাসহ সকল বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভাউচার ভিত্তিক কর্মচারীগণ। গত ২০ থেকে ২৫ বছর যাবত গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন সেক্টরে ভাউচার ভিত্তিক কাজ করছে প্রায় ১৩৫০ জন কর্মচারী। তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ না করে, নতুন স্থায়ী এই নিয়োগের আপত্তি জানিয়ে নিয়োগ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তারা। গত ৮/ ১/ ২০২৬ ইং তারিখ মো: ইসাহাক মিয়া, আইনজীবী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক উক্ত রিটের পক্ষে একটি রেফারেন্স অফ সুপ্রিম কোর্ট চিঠি প্রেরণ করেন।
আইনজীবী কর্তৃক পাঠানো চিঠিতে বিবাদী করা হয় গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগের সাথে জড়িত সকল কর্মকর্তা কর্মচারীসহ দপ্তর বিভাগসমূহকে।
সুত্রে উঠে আসে, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এস্টাবলিস্টমেন্ট গনপূর্তবিভাগ ঢাকা কর্তৃক গত ২৩/৯/২০২৫ ইং তারিখে স্মারক নং ২৫.৩৬.০০০.২১১.১১.৪০২.২০২৫-৪৮০ এর অধীনে জারি করা সার্কুলারের বিরুদ্ধে আদালতে রিট আবেদন করেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভাউচার ভিত্তিক কর্মচারীগণ। উক্ত নিয়োগে অফিস সহকারি-কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট, অফিস সহকারী, হিসাব সহকারী, কার্য সহকারী ,নকশা কারক, মালী, পিয়ন ও নিরাপত্তা প্রহরীসহ ৮টি পদে নিয়োগের জন্য আবেদন আহবান করা হয়েছিল। উক্ত নিয়োগের এমসিকিউ ও লিখিত পরীক্ষাশেষে বর্তমানে মৈাখিক পরীক্ষার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে।নিয়োগের বিরুদ্ধে আবেদনকারীগণ মহামান্য হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক আল-জলিল এবং বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত মাননীয় আদালতের শুনানির পর ০৮.০১.২০২৬ তারিখে বিবাদীদের উপর একটি রুল জারি করেন। উক্ত রিটের আবেদনকারী আইনজীবীর ভাস্যমতে জানা যায় আবেদনকারীগন গত ২০ থেকে ২৫ বছর যাবত গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনে ১৪ থেকে ২০ গ্রেডে প্রায় ১৩৫০ জন ভাউচার ভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে কাজ করে আসছেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের এই ভাউচার ভিত্তিক কর্মচারীরা দীর্ঘদিন যাবত সরকারের কাছে এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে রাজস্ব খাতে স্থায়ীভাবে বহালের আবেদন করে আসছেন। আবেদন আমলে না নেওয়ায় তারা মহামান্য আদালতের দ্বারস্থ হন।তথ্যসূত্রে উঠে আসে আদালত তার বিভিন্ন অবজারভেশনে তাদেরকে রাজস্ব খাতে বহালের জন্য নির্দেশনা প্রদান করলেও তা কার্যকর হয়নি। তাই আদালত বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে অবগত হওয়ার পর এই রুল জারি করেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায় গত ২০ বছর যাবৎ গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন শাখায় প্রায় ১৩৫০ জনের মত রিটকৃত নিয়োগের পদে ভাউচার ভিত্তিক কর্মচারী বর্তমান রয়েছে। তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে নেওয়ার জন্য মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে উক্ত বিষয়ে মামলা দায়ের করা আছে বলে তথ্য উঠে আসে। ভাউচার ভিত্তিক কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের দায়ের করা সাতটি মামলা মহামান্য হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট বিভাগ ভাউচার ভিত্তিক কর্মচারীদের পক্ষে রায় দেয়, তার মধ্যে একটি মামলা সুপ্রিম কোর্টের রিভিউ ডিভিশনে রয়েছে। তাদের দাবি উক্ত বিষয়টি নিষ্পত্তি না করে কিভাবে নতুন করে স্থায়ী নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করে অধিদপ্তর, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা যারা আজ বিশ, পঁচিশ বছর চাকরি করে আসছি আমাদের ভবিষ্যত কি? কি হবে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের। বেতন ছাড়া পাইনি কোনো সুযোগ সুবিধা অসুস্থ হলে নিজের টাকায় নিয়েছি চিকিৎসা।তারা নিজেদের সার্থের জন্য এই নিয়োগ দিয়েছে পকেট ভরাতে। উনারা দেশ তথা সরকারের চিন্তা করে নাই, আমাদের অভিজ্ঞতার কথা ভাবে নাই এই নিয়োগ কর্তারা, ভাবে নাই আমাদের ভবিষ্যতের কথা।
মতামত দিন