জাতীয় নির্বাচনে শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী
সম্প্রতি সময়ে সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। তারই অংশ হিসেবে,
জাতীয় নির্বাচনে কক্সবাজার সহ দক্ষিণ চট্টগ্রামে নাশকতা ও সহিংসতা রোধে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনী। ভোটগ্রহণের আগে, ভোটের দিন ও ভোটে পরবর্তী সময় সহ নির্বাচনকালীন দিনগুলোতে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পগুলোর বাইরে যাতায়ত বন্ধ এবং গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ইতিমধ্যে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে সেনাবাহিনীর রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান, লেফটেন্যান্ট কর্ণেল তানভীর আহমেদ।
তিনি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে কোনো ধরনের উদ্ভট বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে কাঁটাতারের বেড়া মেরামত, চেকপোস্ট স্থাপন, নিয়মিত টহল জোরদারসহ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
লে. কর্নেল তানভীর আহমেদ আশ্বাস দিয়ে বলেন, কক্সবাজারের চারটি আসনের দুর্গম ভোটকেন্দ্রগুলোতেও সেনাবাহিনীর স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। কোনো ভোটকেন্দ্রের ভেতরে বা বাইরে অনিয়ম কিংবা সংঘাতের সৃষ্টি হলে সেনাবাহিনী পুলিশ, র্যাব ও বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয়ে সরাসরি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেবে। নির্বাচনে কোনো অশুভ শক্তি সহিংসতা সৃষ্টি করার সুযোগ পাবে না।
এসময় ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বলেও জানান রামু সেনানিবাসের এ কর্মকর্তা।
মতবিনিময় সভার পূর্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে গেল কয়েকদিনে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর পরিচালিত অভিযানের চিত্র তুলে ধরেন লেফটেন্যান্ট কর্ণেল সুতফা জামান।
এসময় তিনি জানান, গত ৩ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর সদস্যরা ৪৬ টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং মাদকদ্রব্য। এতে গ্রেপ্তার করা হয় আলোচিত হত্যা মামলার আসামিদের পাশাপাশি ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে বসবাসকারি ১ হাজার ১৪৯ জন রোহিঙ্গাকে।
মতামত দিন