টাঙ্গাইলে কিশোরীকে অপহরণ, ধর্মান্তর ও বিয়ের অভিযোগ: থানায় মামলা।
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের হরিজন পল্লির এক হিন্দু কিশোরীকে জোরপূর্বক অপহরণ, ধর্মান্তর ও বিয়ের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা কেরানীগঞ্জের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা টাঙ্গাইল সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, টাঙ্গাইল পৌরসভার শান্তিকুঞ্জ মোড় এলাকার জীবন হরিজনের মেয়ে দীপিকা রানী হরিজন পরী (৯ম শ্রেণির ছাত্রী) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে কেরানীগঞ্জের জাজিরা পশ্চিমপাড়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে দ্বীন ইসলামের সঙ্গে পরিচিত হন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পরবর্তীতে অভিযুক্ত দ্বীন ইসলাম কৌশলে দীপিকাকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, জাল জন্মসনদ ও নোটারি কাগজপত্র তৈরি করে ধর্মান্তরিত করে এক লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে উভয়েই আত্মগোপনে রয়েছেন।
এ ঘটনায় মেয়ের মা সাধনা রানী হরিজন টাঙ্গাইল সদর থানায় দ্বীন ইসলাম (ওরফে আবির হোসেন)-কে প্রধান আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান শুরু করে এবং কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালালেও এখনো কিশোরীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তবে মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অভিযুক্তের মা ও মামাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিভা রানী বর্মন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ওই কিশোরী স্বেচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তন করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ভিডিওটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর মা সাধনা রানী হরিজন। তিনি বলেন, তার মেয়েকে জোরপূর্বক আটকে রেখে এমন ভিডিও ধারণ করা হয়ে থাকতে পারে।
পুলিশ জানায়, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীকে দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
মতামত দিন