আশুলিয়ায় উদ্ধার শক্তিশালী বোমা, নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণে নিষ্ক্রিয় করল পুলিশ
রাজধানীর উপকণ্ঠ আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় একটি চায়ের দোকানের সামনে পরিত্যক্ত অবস্থায় রাখা একটি শক্তিশালী ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেটি নিরাপদে ধ্বংস করে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক ব্যক্তি একটি ব্যাগ নিয়ে ওই চায়ের দোকানে এসে ৫০০ টাকার নোট ভাঙাতে চান। দোকানদার ভাঙতি না থাকায় তিনি কিছুক্ষণ ব্যাগটি রাখার কথা বলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি ফিরে না আসায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে ব্যাগ খুলে স্কচটেপে মোড়ানো একটি প্রেশার কুকার দেখতে পেয়ে তারা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে। পরে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডিভাইসটি পরীক্ষা করেন।
বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, প্রেশার কুকারের ভেতরে বিপুল পরিমাণ বিয়ারিংয়ের বল এবং বিস্ফোরক রাসায়নিক ব্যবহার করে আইইডিটি তৈরি করা হয়েছিল। এটি বিস্ফোরিত হলে বড় ধরনের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। ব্যবহৃত রাসায়নিকের প্রকৃতি পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলেও জানান তারা।
রাতেই ডিভাইসটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। শুক্রবার ভোরে পাশের একটি খোলা মাঠে গর্ত খুঁড়ে চারপাশে বালুর বস্তা দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে আইইডিটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। বিস্ফোরণের অভিঘাতে পাশের একটি সীমানা প্রাচীরের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে গত ২৪ জুলাই রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকেও একটি পাইপ বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় বোমাটি একটি পরিত্যক্ত ছাতার ভেতরে রাখা ছিল। প্রথমদিকে এটি উল্টোরথ যাত্রাকে লক্ষ্য করে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও পরে সরকারের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে কাকতালীয় বলে উল্লেখ করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় এ ধরনের বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আশুলিয়ার ঘটনায় কে বা কারা এই আইইডি সেখানে রেখে গেছে, তা শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মতামত দিন